রানা আজ জিজ্ঞাসা করলো কবে বিয়ে করবো আমি। কেন করেছে জানিনা, তবে উত্তর দিতে যতটা দেরী হবার কথা ততটা হলো না। বললাম, বিয়ে নিয়ে ভাবিনা অতো। অনেক জোড়াজুড়ি করায় বললাম, আসলে বিয়ে টিয়ে নিয়ে সত্যিই আমার কোনো মাথা ব্যাথা নেই। বিয়ে করে হবে টা কি? আমার অনেক কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে। সেগুলো সমাপ্ত করতে করতে বুড়োও হয়ে যেতে পারি। ও দাঁত কেলিয়ে হাসে, বলে, রাতে একা লাগে না? আমি না হেসে পারিনা, বলি- লাগেতো। আর কতদিন এভাবে কাটবে? ঘাড়ে হাত দিয়ে ও চোখ পিটপিট করে। ধুরররর মিয়া, ঐ ব্যাপার? আরে তাতে কি হইছে, যেদিন বেশি একা লাগবে সেদিন সুমনের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে কাউকে না হয় জবাই করলাম :))
আচ্ছা, আমি কি আদৌ বড় হয়েছি? একটা মেয়েকে জড়িয়ে ধরে তার গায়ের অদ্ভুত গন্ধ আর নব্য বুকের স্পর্শ নেয়া এবং অপর এক বিচ্ছিন্ন ঘটনায় টুকরো চুম্বন ছাড়া আমি বড়ত্বের কি প্রামাণ্যচিত্র জীবনের জন্য তুলে রেখেছি! অপর সব দিকের চেয়ে এই সাইডটা আমার আগাগোড়া ভাঙ্গাচুড়া। মাঝে মাঝে খুব কাটখোট্টা মনে হয় নিজেকে। যে যা চেয়েছে তাতো কখনোই দিতে পারিনি, বরঞ্চ বহুক্ষেত্রে খুব কষ্ট দিয়েছি। এসবক্ষেত্রে আমি নিজেও অনুতপ্ত হয়ে ভেতরে ভেতরে খুব পুড়েছি। দগ্ধ হচ্ছি রাতের পর রাত। এটা আমার রাতকে করাতের মতো ধারালো করে রেখেছে। মনটা অজস্রবার ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, তবু, ...কিচ্ছু করার নেই। কিচ্ছু না।
বিয়ের ক্ষেত্রে চাঁটগায়ের ছেলেদের একটা মানসিক সমস্যা রয়েছে। তা হলো, তারা পাত্রী হিসাবে চাঁটগায়ের মেয়েদেরই পেতে চায়। আমি নিজেও এই চলিত ট্র্যাডিশনের উপর কয়েকটা পরীক্ষা চালিয়েছি। যতবার চালিয়েছি ততবারই ঐ একই ফল। এর কারণ চাঁটগায়ের মেয়েরা সুন্দর? না। এটা সেটা না। চাঁটগায়ের মেয়েরা এভারেজ সুন্দর। আমার কাছে চাঁটগায়ের মেয়েদের যে ব্যাপারগুলো ভালো লাগে তা হলো:
-তারা শান্তশিষ্ট। ধীরস্থির।
-বিয়ের পর তারা সংসারের বাইরে বাড়তি সময় ব্যয় করে না। পুরোপুরি সংসারী হয়ে যায়।
-তারা শ্রদ্ধাশীল।
-তারা অতিথিপরায়ন।
-তারা অহংকারী নয়।
-তারা গভীর মায়াশীল।
-তারা সন্তানদের প্রতি অধিক যত্নবান।
-তারা যৌথ পরিবার নিয়ে চলতি সময়ের প্রগতির উন্নয়ন ভাবনা মনেতে লালন করে না।
-তারা ধার্মিক।
-তারা এভারেজ শিক্ষিত।
-তারা খুব পরিশ্রমী। খুব কম সংসারে কাজের লোক থাকে। নিজেদের সংসার নিজেদের হাতে তারা দেখবাল করে।
-সর্বোপরি তারা মাদার তেরেসা হবার স্বপ্ন কমই দেখে। খুব সাধারণ জীবন যাপন করে থাকে তারা। পৃথিবী নয়, তাদের কাছে মূলত তাদের সংসারই সব।
আমি ঢাকার ছেলে নাকি চট্টগ্রামের সেটা নিয়ে মাঝে মাঝে সমস্যা হয়। তবে আমি চট্টগ্রামের ছেলে বলতে যতোটা গর্ববোধ করি, অন্য এলাকার ছেলে বলতে ততটা হই না। আমি চাঁটগাইয়া পোয়া।
সেদিন রাজিবকে উপদেশ দিয়েছিলাম (ওহ আমার ঈশ্বর, আমার উপদেশের ঠেলায় পুরো বন্ধু সার্কেল ত্যাক্তবিরক্ত। তাদের তুমি রক্ষা করো।) রাজিব নিয়ম মাপিক এখনো রাত জাগছে। আমার মেজাজ বিগড়ে যায়। শালা। বললাম, শুন যাদু সোনা- সব পাখির সংসার হয়না। কিভাবে বুঝবি কোন পাখি তোর জন্য আদর্শ? যে পাখি কম উড়বে, বুঝবি এ পাখিকে তুই খাচায় পুরে রাখতে পারবি। যে পাখি ছটফট করবে, বুঝবি এ ভবঘুরে। এরা মাদার তেরেসা হতে চায়। সো লীভ দেম। তোর চাই খাঁচায় ডিম পাড়ার মতোন পাখি। উড়ে উড়ে সংসার হয়না, তুমি বাড়ি গাড়ি আর একশ একতলায় ফ্ল্যাট কিনে এক মাদার তেরেসাকে (ক্ষমা করো মাদার তেরেসা, আমার সাহস দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে! একে তুমি বালকসুলভ দৃষ্টিতে দেখো) তার পূণ্য কাজে বাঁধা দিয়ে সম্পর্কের বন্ধনে বেঁধে উহার সহিত এক রাত এক শট দিয়ে সুখ স্বপ্ন দেখতে পারো বৈকি, কিন্তু বাকী তিনশত চৌষট্টি দিন দেখবে তুমি অন্ধকারে, অন্ধকারে...।
নাহ খুব ওল্ডিষ্ট আমি। রাজিব কি বুঝেছে আল্লায় মালুম। তবে যদি কখনো নিজের জন্য ভাবার ফুসরত পাই তো প্রমিজ করতাছি, বৌকে ভালোবাসতে বাসতে ফতুর করে ফেলবো। বৌ আমার আমি জানি, ভুলোমন আর কাঠখোট্টা এই আমাকে ভালোই দেখবাল করবে। আমাকে সংসারের মায়ায় বেঁধে রাখবে। যৌথ পরিবারটাকে নিজের মতো করে সাজাবে। আমাদের টুনটুনির মতোন বাচ্চাদুটোকে (!) পুরোপুরি সময় দিয়ে তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে বড় করে তুলবে। এমন বড়, যাতে তারা বড় হয়ে বলবে- আমি আব্বু আম্মুর ছেলে/মেয়ে। আমার খুব লোভ হয়, বৌকে কোনো চাঁদ জাগা রাতে পাশে বসিয়ে এই ফ্যাসফ্যাসে কণ্ঠে ভালোবাসার গান শোনাই। গভির অসময়ে তার কোলে মাথা রেখে সবুজের গন্ধ নেই। তাকে স্বপ্ন দেখাতে দেখাতে নিজের মাঝে বিলীন করি। বউ আমার মাথার চুলে হাত বুলিয়ে বুকের ভেতরের 'কিছু করতে না পারার' আগুনটাকে নিভিয়ে আমাকে ইন্সপায়ার করবে, আমার উপর জোড় খাটিয়ে পৃথিবীকে রাঙাবে নতুন করে। কতো কি...। স্বপ্নতো স্বপ্নই! কেউতো আর বুড়ো বয়সে আমাকে বিয়ে করতে আসছে না! তবু স্বপ্ন দেখে যাই, কোনো বন্য অভিলাসে।
Tuesday, November 13, 2007
Saturday, November 10, 2007
উত্তর জানা নেই
আর কতো দূর বয়েস ডিঙোলে নিঃসঙ্গতার দানাগুলো ইনোকটিনের মতো কাজ করবে? আর কত্দুর দূরে সরে গেলে এভারেষ্ট ডিঙ্গিয়ে শৈত্যরা হৃদপিন্ডের কাছাকাছি এসে বসত গড়বে? আর কত্দুর চোখ-কান-মুখ বন্ধ করে পথ হাঁটলে ধোঁয়াশার মতোন ছায়ারা ঝাপসা হতে হতে মিলিয়ে যাবে?
আর কতদূর...?
আর কতদূর...?
Thursday, November 8, 2007
ইচ্ছে করে খুব...
আমি আসলে মানুষ চিনি না। যতই প্যাঁচগোজের বাঁধন এড়িয়ে সটকে আসিনা কেনো, এখন খুব করে নিজেকে বুঝ মানাতে কেনো জানি ভালো লাগে, মানুষ আমি চিনি না। মনে পড়ছে, সেই ছোটবেলার কথা। সুনীল স্যারের ছেলেকে পিটিয়ে তিন দিন স্কুল ফাঁকি দিয়েছিলাম, ৪র্থ দিন ক্লাশে গেলে স্যার আমাকে কাছে টেনে মাথায় হাত বুলিয়ে দুষ্টুমী করতে নিষেধ করেছিলেন শুধু। খুব অবাক হয়েছিলাম সেদিন, তিনি আমাকে মারেননি। মনে পড়ছে, স্যারের একমাত্র সাইকেলটি নষ্ট হয়ে গেলে অন্যদের মতো তিনিও দেড় মাইল পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতেন। আমরা দুষ্টুরা ব্যাপারটা দুচোখে দেখতে পেতাম না। প্রতিদিনের সেই আম, বড়ই, বাতাবি নেবু চুরি'টা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাবে... ব্যাপারটা মেনে নিতে পারিনি তখন। অবুঝ মন... সেদিনের সেই চুরি বিদ্যার যোগ-বিয়োগই করে যাচ্ছি, আজো। স্যারের গোপন কষ্টের মতন আরো কতো কিছু গোপনে থেকে যাচ্ছে প্রতিদিন, তা দেখেও দেখছি না। খুব স্পর্শকাতর ছিলাম না, হয়তো আমি। এখন খুব ইচ্ছে করে হাত ধরে কারো হারিয়ে যেতে, দিগন্ত বরাবর, পথের ধূলোয় ভালোবাসার ছাপ রেখে। আঙুলের ডগায় শিশিরবিন্দু রৌদে ধরলে ক্যামন লাগে তা উৎসুক আর চেনা গন্ধওয়ালা মানুষকে দেখাতে ইচ্ছে করে, খুব।
-------------------------------------------
-------------------------------------------
Saturday, November 3, 2007
হেল্প মি মি. মিরাকল
মনটা ভিষন খারাপ। চোখ জ্বলছে, জল আসছে না। কিভাবে এটাকে ওভার কাম করবো? হেল্প মি মি. মিরাকল...
Friday, November 2, 2007
প্রশ্ন
দিনটা আজ স্মরণীয় হয়ে থাকলো। নানান কারনে। এর মধ্যে বিশেষ এক কারণ, মাঝির ফোনকল। সেই মাঝি, যে নিজের পড়াশুনাটা বিসর্জন দিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলো। আমার ছোট বেলাকার বন্ধুরা ভিষণ পরিশ্রমী। আমার মতই নানান অপ্রাপ্যতায় তারা জর্জরিত। ভুট্টো দুইদিনও গ্রামের বাড়িতে থাকতে পারেনা, ওর উপর ভর করে আছে বিশাল সংসার। তাই ব্যবসায় ফাঁকি দেবার কোনো অজুহাত নাই। নবী আছে নিজের মতো করেই, গ্রামে ফেরে বছরে দুয়েকবার, আর আমি? হুমমম। ভাগ্য বলিয়া যদি কিছু থাকিয়া থাকে তবে আমি নিশ্চিত আমাদের ভাগ্য সেট-আপ করার সময় ঈশ্বর মদ খেয়ে টাল ছিলো। ব্যাটায় উল্টা-সিদা কি যা তা লিখে রেখেছে কপালে।
মাঝি নামটা নকল নাম। এ নামের চমৎকারিত্বে ওর আসল নামটাই হারিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে যখন ফসলের মাঠ ভরে সমুদ্র হতো তখন আমরা ডুব সাঁতার দিয়ে হিন্দু পাড়া থেকে বড় বড় কলাগাছ কেটে ভেঙ্গুরা বানাতাম। এটা একটা শৈল্পিক কাজ। সহজে বানানো সম্ভব না। ৫/৬টা কলাগাছকে মাঝারী সাইজে কেটে পাশাপাশি রেখে এর ভেতরে বাঁশের গজাল ঢুকিয়ে জোড়া লাগানো হতো। ভেঙ্গুরা মাঝি খুব ভালো চালাতে জানতো, তখন থেকেই আমরা ওকে মাঝি বলে সম্বোধন করি। আমাদের একটা ছোট দল ছিলো। সেই দলের নিয়মানুযায়ী সবার একটা করে ছদ্ম নাম অপরিহায্য। মাঝির নামটা সেখানে বিনা বাক্যে টিকে যায়। ভেঙ্গুরা বানানোর দিন শেষ। দীঘির ঘন জলে ডুবাডুবির উচ্ছ্বাসটাও এখন আর নাই। তবু আমরা সেই গুপ্ত দলের সদস্যরা যখনই গ্রামে ফিরেছি, ঘরে ফেরার আগে দীঘির পাড়ে উঠে প্রথমে দিগন্ত ছুঁয়েছি। এটা আমাদের নিখাদ ভালোবাসা। এ আমাদের অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়।
মাঝি আরো একটি মাইল ফলক ছুঁয়েছে। ওর দ্বিতীয় বোনের বিয়ে হচ্ছে ৫ তারিখে। আমাকে যেতেই হবে। ভুট্টো এর মধ্যে চলে গেছে। আম্মাকে ফের ডাক্তার দেখানোর জন্য আমাকে শনিবার অবদি অপেক্ষা করতে হবে। লিটন, মিলন গ্রামেই আছে। নবীকে এখন পেলে হয়। চট্টগ্রামে বিয়েতে প্রচুর খরচ। আকডুম বাকডুম কত কি করে ওখানে। কয়েক দিন ধরে চলে উৎসব। সেসব উৎসবের মধ্যে রঙ ছুঁড়াছুঁড়িটা আমার বিশ্রি লাগে। মনে হয় হলি-খেলা হচ্ছে। কনে পক্ষ বর পক্ষকে কত বড় গরু উপহার দিলো, বর পক্ষ কনে পক্ষকে কি দিলো এমন সব হিসেব নিকেশে আমার অসহ্য লাগে। শুধুমাত্র প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি মহিলাদের বিয়ের গানের আসরটাকে আমার ভালো লাগে। ফাঁকে বিনোদনের জন্য প্রতিরাতেই এখানে মঞ্চ নাটকের ব্যবস্থা করা হয়। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে গ্রামের উঠতি বয়েসী ছেলেরাই। ভালো তারা খুব একটা যে করতে পারে তা নয়, তবু চেষ্টা করছে ওরা এটাই বড় কথা। মঞ্চের সামনে উৎসুক মানুষের খিলখিল হাসি, অদ্ভুত মুখভঙ্গী, উৎসুক দৃষ্টি দেখতে আমার দারুন লাগে। আমি বেশ কিছু বিয়ের গান রেকর্ড করেছি বিচ্ছিন্ন ভাবে। এবার ইচ্ছা আছে সেসব স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার।
-> দুপুরে রাশেদের ওখানে হামলা চালালাম। রাশেদ এখন তার নতুন ভাবীকে দুচোখে দেখতে পারেনা। আমিও না। তবু অমন সুন্দর চেহারার দিকে না তাকিয়ে পারিনা। দারুন সুন্দর, ফিগার, চেহারা। স্বভাবটা ভালো না। আন্টি আমার খাবারের সাথে বিশেষ একটা জিনিস সবসময় রাখেন, তিনি জানেন এটা আমার খুব প্রিয়। খাবারের সাথে তিনি মজার এক আচার দেন। বিয়ের পর বৌকে আমি আন্টির কাছে পাঠিয়ে এ আচারের রেসিপি শেখাবো। খাবার বেড়ে দিয়ে বরাবরের মতই তিনি রাশেদের ক্রিয়াকর্মের বিস্তারিত বিবরণ শুনালেন। রাশেদকে ফোন করলাম, বললো রিক্সায় আছে বন্ধুর সাথে! অথচ আন্টি বললেন অন্য কথা- নতুন গাড়ি নিয়ে মেয়ে নিয়ে ঘুরছে সে! আন্টি জানলো কেমনে?!! ঝাড়ি দিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে আনালাম।
'সবতো মাটি করে দিলি?'
'হুমমম শুনলামতো সব'
'দোস্ত মা কিছু বলেছে নাকি?'
'হ শালা তোকে আদর করতে বলেছে' ও আমার বুকের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে।
'তারপর কি খবর তোর?' আমি ওর মোবাইল ঘাটতে ঘাটতে বলি।
'কি খবর আর, সপ্তায তিনটারে এসপার ওসপার করতাছি'
'বলিস কি বেটা!'
'শুক্রবার সোনিয়া, মঙ্গলবার মিতু, বিৎস্যুতবার লাবনীকে ব্রাউজ করতাছি সমানে।'
'হুমমম''দোস্ত তারপরও রাইতে ঘুম আহে না :( দুইটা করে ট্যাবলেট খাওয়া লাগে'
'ট্যাবলেট খাসনা আর, অভ্যেস হয়ে গেলে সমস্যা'
'আমি নিজেও বুঝি। কিন্তু ঐ খা** মেয়েটা এমন করে...। দোস্ত কি করবো বুঝিনা। রাতে ঘুম আসে না। কিচ্ছু ভাল্লাগে না'
'এটা কেমন কথা, যা ফোট, সিভি রেডি করেছিস?'
'আররর সিভি... চাকরী করে কিচ্ছু হবে না। আর এখন নিজেদের অফিসেতো বসতাছিই, চাকরীর কি দরকার, টাকা দিয়ে কি হইবো?'
'টাকার দরকার নাই সেটা মানলাম, কিন্তু মানুষ সম্পর্কে তোকে জানতে হবে না? নিজেদের অফিসে থেকে একটা মাছিকে পর্যন্ত চিনতে পারবি না। এম.বি.এ তে ভর্তি হচ্ছিস কবে?'
'ভাইয়্যা বললো ইউ.কে যেতে।'
'তুই নির্ঘাত মারা যাবি'
'কেন কেন?'
'এখনো তুই দুধের শিশু। দেখলামতো ঘরের কি অবস্থা করে রেখেছিস? যে ছেলে পানি পর্যন্ত তুলে খেতে জানে না তার জন্য বৈদেশ বাস নিষিদ্ধ।'
'কি বলিস ব্যাটা, ঐটা একটা স্টাইল' বলেই ও মুচকি হাসে।
রাশেদের এই হাসিটা আমার দারুন ভালো লাগে। খুব সাদাসিদে আর লাজুক হাসি। অথচ এ লাজুক হাসির বাইরে ও অন্য মানুষ। কিছুদিন আগেও সে এতোটা ডেসপ্যারাডো ছিলোনা। ওর দাবী ও যেমন ঠকেছে তেমন করে সবাইকে ঠকাবে। ওকে আটকানো যাবে না। ঢাকার মেয়েরা অত্যাধিক প্রগতিশীল, ওরা এমনি এসে ওর কাছে ধরা দেয়। ওকে তাই আমি জোড়ালো ভাবে এসব থেকে বিরত রাখতেও পারিনা। যেখানে ও বিনা পরিশ্রমে পেয়ে যাচ্ছে সেখানে আমি বাঁধা দিতে যাবো কেন? গ্রামের বন্ধুদের সাথে শহুরে বন্ধুদের আমি কখনোই মিক্সিং করতে পারিনা। সম্ভব না। আকাশ পাতাল ব্যবধান। এখানে প্রতিদিন এক একটা ভার্জিন মেয়ে স্বেচ্ছায় বিসর্জিত হয়, প্রতিটি বিসর্জিত মেয়ে প্রতিদিন ভার্জিন সাজায় মগ্ন হয়। এরা এ ফুলে ঢু মেরে ও ফুলে উড়ে যায়। তবে, রাশেদ জীবনে একটা মেয়েকেই ভালোবেসেছে বাকীদের সাথে ও অভিনয় করছে।
একটা পারফেক্ট ছেলের যা যা থাকার দরকার তার সবই রাশেদের আছে, তবু কলি কেনো রাশেদের জন্য অপেক্ষা করেনি?
বিরাট প্রশ্ন।
মাঝি নামটা নকল নাম। এ নামের চমৎকারিত্বে ওর আসল নামটাই হারিয়ে গেছে। পাহাড়ি ঢলে যখন ফসলের মাঠ ভরে সমুদ্র হতো তখন আমরা ডুব সাঁতার দিয়ে হিন্দু পাড়া থেকে বড় বড় কলাগাছ কেটে ভেঙ্গুরা বানাতাম। এটা একটা শৈল্পিক কাজ। সহজে বানানো সম্ভব না। ৫/৬টা কলাগাছকে মাঝারী সাইজে কেটে পাশাপাশি রেখে এর ভেতরে বাঁশের গজাল ঢুকিয়ে জোড়া লাগানো হতো। ভেঙ্গুরা মাঝি খুব ভালো চালাতে জানতো, তখন থেকেই আমরা ওকে মাঝি বলে সম্বোধন করি। আমাদের একটা ছোট দল ছিলো। সেই দলের নিয়মানুযায়ী সবার একটা করে ছদ্ম নাম অপরিহায্য। মাঝির নামটা সেখানে বিনা বাক্যে টিকে যায়। ভেঙ্গুরা বানানোর দিন শেষ। দীঘির ঘন জলে ডুবাডুবির উচ্ছ্বাসটাও এখন আর নাই। তবু আমরা সেই গুপ্ত দলের সদস্যরা যখনই গ্রামে ফিরেছি, ঘরে ফেরার আগে দীঘির পাড়ে উঠে প্রথমে দিগন্ত ছুঁয়েছি। এটা আমাদের নিখাদ ভালোবাসা। এ আমাদের অনেক কিছু মনে করিয়ে দেয়।
মাঝি আরো একটি মাইল ফলক ছুঁয়েছে। ওর দ্বিতীয় বোনের বিয়ে হচ্ছে ৫ তারিখে। আমাকে যেতেই হবে। ভুট্টো এর মধ্যে চলে গেছে। আম্মাকে ফের ডাক্তার দেখানোর জন্য আমাকে শনিবার অবদি অপেক্ষা করতে হবে। লিটন, মিলন গ্রামেই আছে। নবীকে এখন পেলে হয়। চট্টগ্রামে বিয়েতে প্রচুর খরচ। আকডুম বাকডুম কত কি করে ওখানে। কয়েক দিন ধরে চলে উৎসব। সেসব উৎসবের মধ্যে রঙ ছুঁড়াছুঁড়িটা আমার বিশ্রি লাগে। মনে হয় হলি-খেলা হচ্ছে। কনে পক্ষ বর পক্ষকে কত বড় গরু উপহার দিলো, বর পক্ষ কনে পক্ষকে কি দিলো এমন সব হিসেব নিকেশে আমার অসহ্য লাগে। শুধুমাত্র প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি মহিলাদের বিয়ের গানের আসরটাকে আমার ভালো লাগে। ফাঁকে বিনোদনের জন্য প্রতিরাতেই এখানে মঞ্চ নাটকের ব্যবস্থা করা হয়। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে গ্রামের উঠতি বয়েসী ছেলেরাই। ভালো তারা খুব একটা যে করতে পারে তা নয়, তবু চেষ্টা করছে ওরা এটাই বড় কথা। মঞ্চের সামনে উৎসুক মানুষের খিলখিল হাসি, অদ্ভুত মুখভঙ্গী, উৎসুক দৃষ্টি দেখতে আমার দারুন লাগে। আমি বেশ কিছু বিয়ের গান রেকর্ড করেছি বিচ্ছিন্ন ভাবে। এবার ইচ্ছা আছে সেসব স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করার।
-> দুপুরে রাশেদের ওখানে হামলা চালালাম। রাশেদ এখন তার নতুন ভাবীকে দুচোখে দেখতে পারেনা। আমিও না। তবু অমন সুন্দর চেহারার দিকে না তাকিয়ে পারিনা। দারুন সুন্দর, ফিগার, চেহারা। স্বভাবটা ভালো না। আন্টি আমার খাবারের সাথে বিশেষ একটা জিনিস সবসময় রাখেন, তিনি জানেন এটা আমার খুব প্রিয়। খাবারের সাথে তিনি মজার এক আচার দেন। বিয়ের পর বৌকে আমি আন্টির কাছে পাঠিয়ে এ আচারের রেসিপি শেখাবো। খাবার বেড়ে দিয়ে বরাবরের মতই তিনি রাশেদের ক্রিয়াকর্মের বিস্তারিত বিবরণ শুনালেন। রাশেদকে ফোন করলাম, বললো রিক্সায় আছে বন্ধুর সাথে! অথচ আন্টি বললেন অন্য কথা- নতুন গাড়ি নিয়ে মেয়ে নিয়ে ঘুরছে সে! আন্টি জানলো কেমনে?!! ঝাড়ি দিয়ে ১৫ মিনিটের মধ্যে আনালাম।
'সবতো মাটি করে দিলি?'
'হুমমম শুনলামতো সব'
'দোস্ত মা কিছু বলেছে নাকি?'
'হ শালা তোকে আদর করতে বলেছে' ও আমার বুকের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে।
'তারপর কি খবর তোর?' আমি ওর মোবাইল ঘাটতে ঘাটতে বলি।
'কি খবর আর, সপ্তায তিনটারে এসপার ওসপার করতাছি'
'বলিস কি বেটা!'
'শুক্রবার সোনিয়া, মঙ্গলবার মিতু, বিৎস্যুতবার লাবনীকে ব্রাউজ করতাছি সমানে।'
'হুমমম''দোস্ত তারপরও রাইতে ঘুম আহে না :( দুইটা করে ট্যাবলেট খাওয়া লাগে'
'ট্যাবলেট খাসনা আর, অভ্যেস হয়ে গেলে সমস্যা'
'আমি নিজেও বুঝি। কিন্তু ঐ খা** মেয়েটা এমন করে...। দোস্ত কি করবো বুঝিনা। রাতে ঘুম আসে না। কিচ্ছু ভাল্লাগে না'
'এটা কেমন কথা, যা ফোট, সিভি রেডি করেছিস?'
'আররর সিভি... চাকরী করে কিচ্ছু হবে না। আর এখন নিজেদের অফিসেতো বসতাছিই, চাকরীর কি দরকার, টাকা দিয়ে কি হইবো?'
'টাকার দরকার নাই সেটা মানলাম, কিন্তু মানুষ সম্পর্কে তোকে জানতে হবে না? নিজেদের অফিসে থেকে একটা মাছিকে পর্যন্ত চিনতে পারবি না। এম.বি.এ তে ভর্তি হচ্ছিস কবে?'
'ভাইয়্যা বললো ইউ.কে যেতে।'
'তুই নির্ঘাত মারা যাবি'
'কেন কেন?'
'এখনো তুই দুধের শিশু। দেখলামতো ঘরের কি অবস্থা করে রেখেছিস? যে ছেলে পানি পর্যন্ত তুলে খেতে জানে না তার জন্য বৈদেশ বাস নিষিদ্ধ।'
'কি বলিস ব্যাটা, ঐটা একটা স্টাইল' বলেই ও মুচকি হাসে।
রাশেদের এই হাসিটা আমার দারুন ভালো লাগে। খুব সাদাসিদে আর লাজুক হাসি। অথচ এ লাজুক হাসির বাইরে ও অন্য মানুষ। কিছুদিন আগেও সে এতোটা ডেসপ্যারাডো ছিলোনা। ওর দাবী ও যেমন ঠকেছে তেমন করে সবাইকে ঠকাবে। ওকে আটকানো যাবে না। ঢাকার মেয়েরা অত্যাধিক প্রগতিশীল, ওরা এমনি এসে ওর কাছে ধরা দেয়। ওকে তাই আমি জোড়ালো ভাবে এসব থেকে বিরত রাখতেও পারিনা। যেখানে ও বিনা পরিশ্রমে পেয়ে যাচ্ছে সেখানে আমি বাঁধা দিতে যাবো কেন? গ্রামের বন্ধুদের সাথে শহুরে বন্ধুদের আমি কখনোই মিক্সিং করতে পারিনা। সম্ভব না। আকাশ পাতাল ব্যবধান। এখানে প্রতিদিন এক একটা ভার্জিন মেয়ে স্বেচ্ছায় বিসর্জিত হয়, প্রতিটি বিসর্জিত মেয়ে প্রতিদিন ভার্জিন সাজায় মগ্ন হয়। এরা এ ফুলে ঢু মেরে ও ফুলে উড়ে যায়। তবে, রাশেদ জীবনে একটা মেয়েকেই ভালোবেসেছে বাকীদের সাথে ও অভিনয় করছে।
একটা পারফেক্ট ছেলের যা যা থাকার দরকার তার সবই রাশেদের আছে, তবু কলি কেনো রাশেদের জন্য অপেক্ষা করেনি?
বিরাট প্রশ্ন।
Labels:
চলে যাচ্ছে দিন...,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
যন্ত্রণা
যন্ত্রণা
'গ্যাস আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা একদিন ফুরিয়ে যাবে। তাই অযথা চুলা জ্বালিয়ে রাখা ঠিক না। একটা ম্যাচকাঠী বাঁচানোর জন্য উনুন জ্বালিয়ে রাখা ঠিক না।' সকালেই উপদেশটা শুনলাম ৩ বার। যিনি বললেন বয়সের দিক থেকে তিনি সেঞ্চুরীর পথে। আমি নিজেও উপদেশটা বার কয়েক রিপিট করলাম, বাকিদের শুনালাম ভঙ্গী নকল করে। নকল করা সহজ, একহাত কোমরে রাখতে হবে, ঠোঁট দুটো টিয়া পাখির মতো সরু আর নাকটা কুঁচকে বলতে হবে। অ্যাঁ... গ্যাঁস আঁমাদের জাঁতীয় সঁম্পদ। এঁটা এঁকদিন ফুঁরিয়ে যাঁবে। টাই অঁযথা চুঁলা জ্বালিয়ে রাঁখা ঠিঁক না। এঁকটা ম্যাছকাঁঠী বাঁচানোর জন্য উঁনুন জ্বালিয়ে রাঁখা ঠিঁক না।"
নকলটা ভালো হয়েছে তা বেশ ভালো বুঝা যায়। যিনি শুনেছেন তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে হেসেছেন। এদিকে আমার এক চোখ ট্যারা হয়ে গেছে নকলের ঠেলায়। হায় আগেতো চিন্তা করি নাই, দেখিও নাই। দাদী আমার মাশাল্লাহ সুন্দর। শুধু নাকটা একটু বোচা। বোচা নাঁকিরা নাকি হাঁদা হয়। দাদীকে দেখলে অবশ্য এর সত্যতা টের পাওয়া যায়।
আঁমাকে তিনি নতুন হাওয়াই ফ্যান কিনে দিবেন। পুরানটায় বাঁতাস কম দেয়। মনে মনে ভাবি, হায় তুমি যদি শীতের আগে আসিতে!
'এ জিনিস মাথার উপর পড়লে আমি নির্ঘাত মারা যাবো।'
'জগত ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে। আমাকেও যেতে হবে, তোকেও যেতে হবে'
'কো...কোথায় যাবেন?'
' সররর তুই জানিসনা মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? তিনি আমাকে সরিয়ে মেহেদী গাছের পাতা থেকে ধুলো ঝাড়ছেন।
' কখনো ঐখানে যাই নাই, তবে আপনার এতো তাড়াতাড়ি সেখানে যাওয়া উচিৎ হবে না’
' কেন?'
'ফ্যান কে কিনে দেবে?' হো হো হো আমি বুড়ির পেছনে নৈ:শব্দিক উল্লাস করি। ঝানতাম না আমি ডান্স পারি!
সকালেই বুড়ি ঘুম ভাঙ্গাচ্ছেন ইদানিং। মুখ-চোখ-ভ্রু কুঁচকে ভাবি এ বুড়ি ছাদে উঠে ক্যামনে :(( প্রতিদিন সকালে এমন উটকো ঝামেলা, জানটার উপর ইদানিং খুব অনৈতিক হামলা চলছে।
নকলটা ভালো হয়েছে তা বেশ ভালো বুঝা যায়। যিনি শুনেছেন তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে হেসেছেন। এদিকে আমার এক চোখ ট্যারা হয়ে গেছে নকলের ঠেলায়। হায় আগেতো চিন্তা করি নাই, দেখিও নাই। দাদী আমার মাশাল্লাহ সুন্দর। শুধু নাকটা একটু বোচা। বোচা নাঁকিরা নাকি হাঁদা হয়। দাদীকে দেখলে অবশ্য এর সত্যতা টের পাওয়া যায়।
আঁমাকে তিনি নতুন হাওয়াই ফ্যান কিনে দিবেন। পুরানটায় বাঁতাস কম দেয়। মনে মনে ভাবি, হায় তুমি যদি শীতের আগে আসিতে!
'এ জিনিস মাথার উপর পড়লে আমি নির্ঘাত মারা যাবো।'
'জগত ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে। আমাকেও যেতে হবে, তোকেও যেতে হবে'
'কো...কোথায় যাবেন?'
' সররর তুই জানিসনা মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? তিনি আমাকে সরিয়ে মেহেদী গাছের পাতা থেকে ধুলো ঝাড়ছেন।
' কখনো ঐখানে যাই নাই, তবে আপনার এতো তাড়াতাড়ি সেখানে যাওয়া উচিৎ হবে না’
' কেন?'
'ফ্যান কে কিনে দেবে?' হো হো হো আমি বুড়ির পেছনে নৈ:শব্দিক উল্লাস করি। ঝানতাম না আমি ডান্স পারি!
সকালেই বুড়ি ঘুম ভাঙ্গাচ্ছেন ইদানিং। মুখ-চোখ-ভ্রু কুঁচকে ভাবি এ বুড়ি ছাদে উঠে ক্যামনে :(( প্রতিদিন সকালে এমন উটকো ঝামেলা, জানটার উপর ইদানিং খুব অনৈতিক হামলা চলছে।
Thursday, November 1, 2007
আমার পথচলা
ইদানিং শেষ রাতের দিকে বৃষ্টি হচ্ছে। অনাথ বৃষ্টি। শীত নামছে বেশ বুঝা যাচ্ছে। ঘুম ভাঙ্গলে আবিস্কার করি বিছানায় 'দ' হয়ে শুয়ে শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছি। দরজা খুলে ছাদে বেরিয়ে এলেই ফুরিয়ে যাওয়া বৃষ্টির আঁচ টের পাওয়া যায়। টবে লাগানো প্রায় প্রত্যেকটা গাছে নাল-নীল ফুলের মেলা। আমার লাল-নীল কিংবা রঙিন ফুল অতো ভালো লাগে না। দুইটা টবে ঘাসফুল লাগানো। শুভ্র সাদা। এদের আমি বিশেষ কদর করি। ওরা যখন ফোটে তখন আমি লাগামহীন দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে থাকি। ঘুমের শেষ স্পর্শ এখানে বসেই ফুরিয়ে যায়। সাথে মাথার ভেতরের ঝিমঝিমানি। রেলিংয়ের এ কোনায় বসে কাটে আমার কিছু নির্ঘুম রাত, কিছু বিকেল। কখনো গিটারে টুংটাং শব্দ করে, কখনো একাকী, কখনো আড্ডা দিয়ে।
লামিয়া নিজেকে লুজার বলেছে, না বুঝেই বলেছে। আমিও নিজেকে লুজার বলি, এবং সেটা বুঝেই। জীবনটার রাস্তা পরিবর্তন করা অনেক সহজ কিন্তু সঠিক রাস্তায় নিজেকে পরিচালনা করা অনেক কঠিন। তোমাকে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে, তোমাকে সাংসারিক দায়িত্ববোধ উপলব্ধি করতে হবে, তোমাকে প্রতিটি প্রদক্ষেপে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণে রাখতে হবে। এসব ভাবলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। একটা ভালো চাকরী খুঁজছি। পেয়ে গেলে ভার্সিটি পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। করবো। যেখানে যাবার ইচ্ছা সেখানে আবার 'ইয়াবা'র ছড়াছড়ি। ইয়াবা খেলে নাকি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আমি অবশ্য শীতলগোষ্ঠীয় প্রাণী নই। প্রাকৃতিক ভাবেই মহিলা দেখলে আমার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বন্ধুদের কেবল বলেছি ওখানে পড়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু প্রচুর খরচ। তবে ফুল টাইম চাকরী করলে এর কাছাকাছি যাওয়াটা কঠিন না।
ইদানিং পার্টিরা বাঁধ ভেঙ্গেছে। এসবের রাত্রি-দিন আমার অতো খারাপ লাগে না। নিজের মতো থাকি। বেসুরে গাই। তাল পৃথিবীকে আরো ঝাপসা করি। কিন্তু জগতের সব তাল গোষ্ঠির সমস্ত চিন্তাধারা এখানে এলে ভুল প্রমাণিত হয়। 'র' মেরেও তালকে আনায়ন করা সম্ভব হয় না, কখনো কখনো। কখনোই জোড়াজুড়ি কিংবা শব্দের তীর ছুঁড়েও নারুর প্রতি আসক্তি আমার ভেতরে ঢালা সম্ভব হয়না। ওরা হতাশ হয়, ওরা মাত্রারিক্ত তাল হয়। সভ্যতার এসব নাচানাচি অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। কোন বালে বলেছে এসবে দু:খবোধ হারিয়ে যায়, আমার বাড়ে।
নিজের অনেক স্বাদ-আহলাদ মাঠে মারা গেছে। স্বাধ-আহলাদকে জীবনের সাথে জুড়তে টাকা পয়সা লাগে। আমার সীমিত অর্থনৈতিক অবস্থান হিসেবী না হলেও বরাবর ট্যানটেনাটান। জীবনের প্রায়োগিক দিকগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার অপরাধবোধ হয়। কারো জন্যই পারছি না ভালো করে কিছু করতে। পড়াশুনার ব্যাপারে স্পর্শকাতরতা আমার একটু বেশি সেটা মানি। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে এটা আমাকে যা দিবে তা দিয়ে ওদের জন্য আরো বিশাল ভাবে কিছু করার পথ খুলবে।
লামিয়া নিজেকে লুজার বলেছে, না বুঝেই বলেছে। আমিও নিজেকে লুজার বলি, এবং সেটা বুঝেই। জীবনটার রাস্তা পরিবর্তন করা অনেক সহজ কিন্তু সঠিক রাস্তায় নিজেকে পরিচালনা করা অনেক কঠিন। তোমাকে ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে, তোমাকে সাংসারিক দায়িত্ববোধ উপলব্ধি করতে হবে, তোমাকে প্রতিটি প্রদক্ষেপে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণে রাখতে হবে। এসব ভাবলে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। একটা ভালো চাকরী খুঁজছি। পেয়ে গেলে ভার্সিটি পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। করবো। যেখানে যাবার ইচ্ছা সেখানে আবার 'ইয়াবা'র ছড়াছড়ি। ইয়াবা খেলে নাকি শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। আমি অবশ্য শীতলগোষ্ঠীয় প্রাণী নই। প্রাকৃতিক ভাবেই মহিলা দেখলে আমার শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। বন্ধুদের কেবল বলেছি ওখানে পড়ার ইচ্ছা আছে। কিন্তু প্রচুর খরচ। তবে ফুল টাইম চাকরী করলে এর কাছাকাছি যাওয়াটা কঠিন না।
ইদানিং পার্টিরা বাঁধ ভেঙ্গেছে। এসবের রাত্রি-দিন আমার অতো খারাপ লাগে না। নিজের মতো থাকি। বেসুরে গাই। তাল পৃথিবীকে আরো ঝাপসা করি। কিন্তু জগতের সব তাল গোষ্ঠির সমস্ত চিন্তাধারা এখানে এলে ভুল প্রমাণিত হয়। 'র' মেরেও তালকে আনায়ন করা সম্ভব হয় না, কখনো কখনো। কখনোই জোড়াজুড়ি কিংবা শব্দের তীর ছুঁড়েও নারুর প্রতি আসক্তি আমার ভেতরে ঢালা সম্ভব হয়না। ওরা হতাশ হয়, ওরা মাত্রারিক্ত তাল হয়। সভ্যতার এসব নাচানাচি অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। কোন বালে বলেছে এসবে দু:খবোধ হারিয়ে যায়, আমার বাড়ে।
নিজের অনেক স্বাদ-আহলাদ মাঠে মারা গেছে। স্বাধ-আহলাদকে জীবনের সাথে জুড়তে টাকা পয়সা লাগে। আমার সীমিত অর্থনৈতিক অবস্থান হিসেবী না হলেও বরাবর ট্যানটেনাটান। জীবনের প্রায়োগিক দিকগুলোর দিকে তাকিয়ে আমার অপরাধবোধ হয়। কারো জন্যই পারছি না ভালো করে কিছু করতে। পড়াশুনার ব্যাপারে স্পর্শকাতরতা আমার একটু বেশি সেটা মানি। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে এটা আমাকে যা দিবে তা দিয়ে ওদের জন্য আরো বিশাল ভাবে কিছু করার পথ খুলবে।
Subscribe to:
Posts (Atom)