আজকের দিনটা ভালোনা। ভিষন মন খারাপীয় একটা দিন। এদিনে কি করতে ভালো লাগে? জানিনা। এসব জানতে এখন আর ইচ্ছে করেনা। সকালে শ্রাবনী কিলঘুষি দিয়ে উঠিয়েছে যদিও, ফের ঘুমিয়ে যখন উঠলাম তখন সকাল ১১টা। জানলার বাইরের আলো দেখে মনে হলোনা সকাল। দরোজা খুলে ছাদে এসে দেখি বৃষ্টি কণা! চোখে, মুখে, অস্তিত্বে ঘুম লেপ্টে থাকায় ভাবলাম ভুল দেখছি কিন্তু শরীর জুড়ে বৃষ্টির ঝাপটা লাগতেই বিভ্রম কেটে যায়। তড়িগড়ি ফ্রেস হলাম। ড্রয়ার, ব্যাগ ঘেটেও মানিঅডার ফর্ম খুঁজে পেলাম না। আজ বৃহ:স্পতিবার খেয়াল আছে, পোষ্ট অফিস যেতে হবে সেটাও। পিসি বন্ধ করে ফ্লোরের এক কোনায় পড়ে থাকা ব্যাগটার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ক্ষনিক দম নিলাম। ভাল্লাগছে না একদম।
পোষ্ট অফিস থেকে বের হয়ে সিদ্ধান্ত যা নেবার নিলাম। কয়েকটা দিন আমার সবকিছু থেকে মুক্তি চাই। ব্যাস। ইদানিং অদ্ভুত সব শব্দ মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছে। কেন তারা আসছে জানিনা। এইযে এখন একটা শব্দ বাজছে কানে, ধোলাইখাল! কেন এই অদ্ভুত শব্দটা মাথায় ঘুরছে জানিনা। তবে জানতে হবেই তেমনও কোনো উচ্ছ্বাশাও নাই। ধোলাইখালের রাস্তাঘাট ভুলে গেছি। তবে মনে আছে ওখানে সব জিনিসপত্রকে নিমিষেই বদলে দেয়া যায়। একটা ট্রাককে পাঁচ মিনিটে ভ্যানিস করে দেয়া যায়। দশ মিনিটেই উড়োজাহাজকে দু চাক্কার সাইকেল বানিয়ে দেয়া যায়!
মানুষওতো একটা যন্ত্র তাই না? ধোলাইখালে মানুষ নামক যন্ত্রটাকে মেরামত করে কিনা জানা নাই। করলে বেশ হতো। গিয়ে অর্ডার দেয়ার যেত খুব, এই যে, শুনেন- এইযে আমাকে দেখছেন, এই আমার ভেতর থেকে কেজি খানেক দু:খ বের করে এক পোয়া ওজনের সুখ ভরে দিন। অথবা। আমার মাথার ভেতর ইগো নামক এক মহা বদ লোক লুকিয়ে আছে ঐ ব্যাটাকে বের করে দিন চটজলদি।
তারপর? প্রশ্নই আসেনা। কে নিতে চায় আমার জমাট দু:খের দায়ভার?
ভাল্লাগছে না এই আমাকেই। আপাতত হাওয়া হতে চাই কয়েকদিন সবকিছু থেকে। কিন্তু কোন পথ দিয়ে পালিয়ে যাওয়াটা সহজ?
Showing posts with label মেঘবালিকা. Show all posts
Showing posts with label মেঘবালিকা. Show all posts
Thursday, January 24, 2008
Monday, January 14, 2008
একবার এসে দ্যাখো আমায়...
১.
পাঁচটা টেস্ট করিয়েও রোগের নেজ খুঁজে পাওয়া গেলনা। ডাক্তারের সাথে কথোপকথনটা আমার বরাবর মজাদার হয়। আজকে হলো না।
ডা: ইদানিং কি করছো তুমি?
আ: কিছু করা হয়ে উঠছে না আসলে। কিছুই তেমন করছি না।
ডা: টেনশন করো?
আ: তেমন জোরালো টেনশন করিনা।
ডা: আমার ধারনা ছিলো তোমার টাইপয়েড হয়েছে। রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। তোমার কিছুই হয়নি।
আ: রিপোর্টে কি ভুল থাকতে পারেনা?
ডা: তোমার সমস্যাটা আবার খুলে বলো।
আ: রাতে দেরী করে ঘুম হয়। যখনই ঘুমাই তার কয়েক ঘন্টা পর জেগে উঠতে হয়। গায়ে প্রচন্ড জ্বর থাকে, একই সাথে মাথা ধরা, মাঝে মাঝে সর্দি। দিনের বেলায় শরীর গরম থাকে, মাথা ভার থাকে।
ডা: জ্বরের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা।
ডাক্তার মাথা ঝাঁকালেন। খচখচ করে কাগজে কিছু লিখে দিলেন, বললেন, দ্রুত কোনো কাজে কম্মে লেগে যাও। আর এই ঔষুধ দুটো প্রতি রাতে ১টা করে মোট পনেরো দিন খাবে। এরপর খাওয়া লাগবে না!
ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সাথে সাথে বুক ফুড়ে নিরবে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। আমি টেনশন করি নাকি? কই, তেমন টেনশনতো করিনা। ধুর ছাই আমার মাথা-টাথা গেছে। কি যে এক ঘোড়ারোগ হলো আমার। ঈশ্বর.....।
২.
রোদে বসে গিটার নিয়ে টুং টাং করছি। কিছুক্ষন পর জননী ছাদে উঠে এলেন, বললেন- শিক্ষিত ছেলেরা এসব করে? আয় খেতে আয়। আমি কিছু বললাম না। কেবল হাসলাম।
: পাগল হয়েছিস?
: মুচকি হেসে মাথা নাড়াই
মা কাছে এসে চুলে হাত বুলান। ঠিক করে দেন। তারপর, বসে থাকেন যক্ষ বুড়ির মতোন। আমি তার ভেতরের অবস্থাটা বেশ বুঝতে পারছি। তবু, উঠে যাই অকারনে। মায়া বাড়ানো ঠিক না।
৩.
গান বাজাচ্ছি, গিটারে, যাত্রীর গান। আমার প্রিয় গান।
--> ভেবেছি তাই এবার যা কিছু হবে হবার
ভুল তবু করি স্বীকার
পরাজয় মেনে নিয়ে সব কিছু ভুলে গিয়ে
চাইবো আমার অধিকার
কপালে যা আছে লেখা, মনে যদি পাই-ও ব্যাথা
দ্যাখে নেবো আমার এর শেষ
মিথ্যে অভিনয় আর নয়, আর নয়
এই ভালো আছি এই বেশ...
মন... আঁধারের নীলিমায় তোমাকেই আজ খুঁজতে চায়
জানিনা কোথায় তোমায় পাবো তোমায়
একবার এসে দ্যাখো আমায়...।
৪।
হঠাৎ আদম হাওয়ার কথা মনে পড়ছে। আদম কি কখনো হাওয়াকে সন্দেহ করতো? করতো না। আমিও করতাম না। তাই বলে আমি আদম নই। আদম ভালো ছিলো। বছরের পর বছর ব্যাটায় হাওয়াকে পাবার জন্য কান্না-কাটি করেছিলো...। আমি পারিনা কেনো? আমার দ্বারা আসলে কিছু হয়না। হবেনা। আমার এখন এটাও মনে পড়ছে যে, আমার প্রচুর ঈর্ষা ছিলো। একসময়। এখন সেটা নেই ক্যানো? আমার এও মনে পড়ছে যে একসময় আমি তোকে খুব ভালোবাসতাম, এখন তোকে ভালোবাসি নাকি ঘৃনাবাসি সেটা বুঝতে পারছিনা কেনো? নাহ আমার মাথা পুরা আউলা হয়ে গেছে। আমি নি:শেষ হয়ে যাচ্ছি, তবু আগের মতো করে তোকে সব বলতে পারছি না...? একবার এসে দ্যাখে যাবি আমায়? চোখে মুখে গরম নিশ্বাস ঢেলে বলবি- ভালোবাসিস তুই আমায় সবচে বেশি!
পাঁচটা টেস্ট করিয়েও রোগের নেজ খুঁজে পাওয়া গেলনা। ডাক্তারের সাথে কথোপকথনটা আমার বরাবর মজাদার হয়। আজকে হলো না।
ডা: ইদানিং কি করছো তুমি?
আ: কিছু করা হয়ে উঠছে না আসলে। কিছুই তেমন করছি না।
ডা: টেনশন করো?
আ: তেমন জোরালো টেনশন করিনা।
ডা: আমার ধারনা ছিলো তোমার টাইপয়েড হয়েছে। রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। তোমার কিছুই হয়নি।
আ: রিপোর্টে কি ভুল থাকতে পারেনা?
ডা: তোমার সমস্যাটা আবার খুলে বলো।
আ: রাতে দেরী করে ঘুম হয়। যখনই ঘুমাই তার কয়েক ঘন্টা পর জেগে উঠতে হয়। গায়ে প্রচন্ড জ্বর থাকে, একই সাথে মাথা ধরা, মাঝে মাঝে সর্দি। দিনের বেলায় শরীর গরম থাকে, মাথা ভার থাকে।
ডা: জ্বরের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিনা।
ডাক্তার মাথা ঝাঁকালেন। খচখচ করে কাগজে কিছু লিখে দিলেন, বললেন, দ্রুত কোনো কাজে কম্মে লেগে যাও। আর এই ঔষুধ দুটো প্রতি রাতে ১টা করে মোট পনেরো দিন খাবে। এরপর খাওয়া লাগবে না!
ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়ে আসার সাথে সাথে বুক ফুড়ে নিরবে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। আমি টেনশন করি নাকি? কই, তেমন টেনশনতো করিনা। ধুর ছাই আমার মাথা-টাথা গেছে। কি যে এক ঘোড়ারোগ হলো আমার। ঈশ্বর.....।
২.
রোদে বসে গিটার নিয়ে টুং টাং করছি। কিছুক্ষন পর জননী ছাদে উঠে এলেন, বললেন- শিক্ষিত ছেলেরা এসব করে? আয় খেতে আয়। আমি কিছু বললাম না। কেবল হাসলাম।
: পাগল হয়েছিস?
: মুচকি হেসে মাথা নাড়াই
মা কাছে এসে চুলে হাত বুলান। ঠিক করে দেন। তারপর, বসে থাকেন যক্ষ বুড়ির মতোন। আমি তার ভেতরের অবস্থাটা বেশ বুঝতে পারছি। তবু, উঠে যাই অকারনে। মায়া বাড়ানো ঠিক না।
৩.
গান বাজাচ্ছি, গিটারে, যাত্রীর গান। আমার প্রিয় গান।
--> ভেবেছি তাই এবার যা কিছু হবে হবার
ভুল তবু করি স্বীকার
পরাজয় মেনে নিয়ে সব কিছু ভুলে গিয়ে
চাইবো আমার অধিকার
কপালে যা আছে লেখা, মনে যদি পাই-ও ব্যাথা
দ্যাখে নেবো আমার এর শেষ
মিথ্যে অভিনয় আর নয়, আর নয়
এই ভালো আছি এই বেশ...
মন... আঁধারের নীলিমায় তোমাকেই আজ খুঁজতে চায়
জানিনা কোথায় তোমায় পাবো তোমায়
একবার এসে দ্যাখো আমায়...।
৪।
হঠাৎ আদম হাওয়ার কথা মনে পড়ছে। আদম কি কখনো হাওয়াকে সন্দেহ করতো? করতো না। আমিও করতাম না। তাই বলে আমি আদম নই। আদম ভালো ছিলো। বছরের পর বছর ব্যাটায় হাওয়াকে পাবার জন্য কান্না-কাটি করেছিলো...। আমি পারিনা কেনো? আমার দ্বারা আসলে কিছু হয়না। হবেনা। আমার এখন এটাও মনে পড়ছে যে, আমার প্রচুর ঈর্ষা ছিলো। একসময়। এখন সেটা নেই ক্যানো? আমার এও মনে পড়ছে যে একসময় আমি তোকে খুব ভালোবাসতাম, এখন তোকে ভালোবাসি নাকি ঘৃনাবাসি সেটা বুঝতে পারছিনা কেনো? নাহ আমার মাথা পুরা আউলা হয়ে গেছে। আমি নি:শেষ হয়ে যাচ্ছি, তবু আগের মতো করে তোকে সব বলতে পারছি না...? একবার এসে দ্যাখে যাবি আমায়? চোখে মুখে গরম নিশ্বাস ঢেলে বলবি- ভালোবাসিস তুই আমায় সবচে বেশি!
Labels:
চলে যাচ্ছে দিন...,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা
Monday, December 31, 2007
সৃষ্টি
প্রায় এক মাসের সফল কর্মসূচির পর বরগুনা থেকে যখন ঢাকায় ফিরলাম তখন শরীর/মনের অবস্থা যাচ্ছেতাই। মনে মনে ভাবছিলাম লম্বা এক ডুব দিবো। সবকিছু থেকে। খাবো, দাবো, ঘুমে ডোম হবো। তেমন কিছুই হতে দিলো না নিয়তি। জরুরী তলব, বাড়িতে কোরবানি করতে হবে। অবশেষে চাঁন রাতে শেষ টিকিট নিয়ে যখন সৌদিয়ার বাস সার্ভিসে চেপে বসলাম তখনই ফোন। জানানো হলো বড় চাচা মারা গেছেন। গাজীপুর, দেড় ঘন্টার পথ। আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হলো তড়িগড়ি। বাস ছেড়ে দিবে একটু পর। দশ-বিশ-ত্রিশ গুনতে হলোনা। কর্তব্য বলতে শুধু অ্যামেরিকায় এন্সারিং মেশিনে এক মিনিটের বক্তৃতা দিয়েই সিটে শরীর এলিয়ে গভির ঘুমে মগ্ন হলাম। লোকটার প্রতি আমার কোনো মায়া-মমতা ছিলোনা। এখনো নাই। আমার ভেতরে অনেক অনেক জ্বালা, কষ্ট, হতাশা জাগিয়ে লোকটা হুট করে চলে গেছে। এতে আমার হতাশা বেড়েছে বৈ কমেনি।
যাইহোক, নিজের গ্রামে কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কিভাবে শুরু করবো। অবশেষে সেটা এবার দেখতে পেলাম। গ্রামের একটা অংশ বাকি অংশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক সব দিক থেকে তারা পিছিয়ে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেলাম এখানে শিক্ষার হার অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক কম। বন্ধুরা বললো ল্যাদা-ফ্যাদাদের শিক্ষার দিকে নজর দিতে। তাহলেই উন্নয়ন সম্ভব। আমি সেদিকে হাঁটলাম না। মা'দের নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছে করলো। এখানে বয়স্ক/বিবাহিত মহিলাদের শিক্ষার হার অনেক কম। ভেবে দেখলাম যদি এদের কোনো ভাবে শিক্ষিত করতে পারি তাহলে বাজিমাত করা সম্ভব। একজন মা একটি পরিবারের মুল অভিভাবক। মা শিক্ষিত হলে ফ্যামিলি এমনিতেই ডেভেলপ করবে। একজন কর্মজীবি বাবা পরিবারে কতটুকু সময় দিতে পারে? মা পরিবারকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে থাকে। উপরোন্তু সন্তানরা বাবার চেয়ে মাকে খুব বেশি কাছে পায়। তারা মায়ের আদর, স্নেহ, ভালোবাসা পেয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। তাই একজন মা যা বলেন সন্তানরা তাই আগ্রহ ভরে করার চেষ্টা করে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে মা'কে বুঝাতে পারলে পরিবেশের এমন ছ্যাঁড়াব্যাঁড়া অবস্থারও উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তাই, মা'কে শিক্ষিত করতে পারলে সবকিছুকে শিক্ষিত করার একটা চান্স নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ঝানু মহিলাদের কিভাবে বোঝাবো। এর আগে এখানে সরকারীভাবে এমন উদ্যেগের কম চেষ্টা হয়নি। সবই শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেছে। সুবিধে হলো এদের কাছে আমি মোটামুটি পরিচিত। আমার এই পরিচিত তাদের ভেতর বিপ্লব ঘটাতে পারে, তাই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য উঠেপড়ে লেগে গেলাম।
৫ সদস্যের একটা কমিটি করলাম। এরা ডোনেট করবে। মাসিক যা খরচ হবে তার পুরোটাই এরা বহন করবে। স্কুল ঘর ঠিক করার পর ঘরের মালিক জানালো তাকে ভাড়া দিতে হবে না। কমিটির সবাই এতে ভিষণ খুশি। 'সৃষ্টি' নিয়ে আজম আর মিলনের আগ্রহ দেখে ভালো লাগলো। আমার অবর্তমানে এরা এই কাজটাকে এগিয়ে নিতে পারবে মোটামুটি। অবশেষে চারজন শিক্ষিকার ব্যবস্থা করতে পারা গেল। এদের ৩ জন কোনো টাকা নিবে না। ১ জনকে মাসিক ১০০০ টাকা দিলেই চলবে! পূর্বে দেখতে পেয়েছি প্রায় প্রতিটি প্রোজেক্টের আগে একটা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হয়। যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক অনেক কম অর্থনৈতিক প্রেসার 'সৃষ্টিতে' পেলাম। পুরোপুরি গোছগাছ করে সবাইকে নিয়ে স্কুল ঘরে একটা মিটিং এর আয়োজন করা হলো। শুধুমাত্র ছাত্রীদের নিয়ে মিটিং। যারা আসবে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে বই, চক, ডাস্টার দেয়া হবে। আমার ধারনা ছিলো লজ্জা-শরম দূরে হটিয়ে ৭/৮জন মতো হয়তো আসবে। সেই অনুযায়ী ১২ জনের জন্য জিনিসপত্র কিনে আনা হয়েছিল। বিপত্তি ঘটলো মিটিংয়ে মহিলাদের উপস্থিতির পর। ৩০/৩৫ জন ছাত্রী দেখে আমার মতই সবাই তাজ্জব! যাই-হোক, ২০ মিনিট টানা ব্রিফ দিলাম। সুবিধে হলো এদের চোখে সহজেই জল এনে ফেলা যায়। এদের একটু ভালোবাসা দেখাতে পারলে এরা মানুষের জন্য কি না করতে পারে? তাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে :
১। ছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠ্যেদান করা হবে।
২। সপ্তায় ৬ দিন ক্লাশ হবে। ক্লাশ শুরু হবে বিকেল ৩টায়।
৩। ১ জন শিক্ষক সপ্তায় ২টি করে ক্লাশ নিবেন।
৪। সপ্তাহের প্রতি বৃহ:স্পতিবার একটি করে মিটিং হবে। এখানে ছাত্রীদের প্রোগ্রেস, তাদের সমস্যা, অভিযোগ, পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে। অভিযোগ, সমস্যাগুলো আজম লিপিবদ্ধ করে রাখবে। পরের ক্লাশ থেকে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে।
৫। প্রত্যেক মাসে একটি করে বড় মিটিং হবে। সেখানে কমিটির সবাই উপস্থিত থাকবো। যাবতীয় সমস্যা সমাধান দেয়ার চেষ্টা করা হবে তখন। মজার মজার সব ইভেন্টের মাধ্যমে ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে।
৬। কোনো কারণ ছাড়াই কেউ তিন দিন ক্লাশে অনুপস্থিত থাকলে পরবর্তী অনুপস্থিত ক্লাশের জন্য ২ টাকা হারে জরিমানা করা হবে।
৭। আরো কিছু...।
এর মানে হলো আমাকে প্রতি মাসে গ্রামে যেতে হবেই! আমি ত্যাক্ত বিরক্ত হবো না। বরং প্রোজেক্টটা দাঁড়িয়ে গেলে আমার চেয়ে সুখি মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া ভার হবে। 'সৃষ্টি' নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সমস্যা হলো তেমন অরগানাইজ জনোবল নাই। যে চারজন কমিটিতে আছে তারা হাঁ হয়ে আমার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে। আমার চাই অরগানাইজ জনোবল আর পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দেবার মতো প্রিয়জন। তেমন পাওয়া ভার। দাঁড়িয়াল ঠাকুরের কবিতাই এখন শেষ সম্বল, "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে..."
যাইহোক, নিজের গ্রামে কিছু একটা করার স্বপ্ন ছিলো। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না ঠিক কিভাবে শুরু করবো। অবশেষে সেটা এবার দেখতে পেলাম। গ্রামের একটা অংশ বাকি অংশগুলোর চেয়ে পিছিয়ে। অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক সব দিক থেকে তারা পিছিয়ে। এর কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেলাম এখানে শিক্ষার হার অন্যান্য অংশের তুলনায় অনেক কম। বন্ধুরা বললো ল্যাদা-ফ্যাদাদের শিক্ষার দিকে নজর দিতে। তাহলেই উন্নয়ন সম্ভব। আমি সেদিকে হাঁটলাম না। মা'দের নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছে করলো। এখানে বয়স্ক/বিবাহিত মহিলাদের শিক্ষার হার অনেক কম। ভেবে দেখলাম যদি এদের কোনো ভাবে শিক্ষিত করতে পারি তাহলে বাজিমাত করা সম্ভব। একজন মা একটি পরিবারের মুল অভিভাবক। মা শিক্ষিত হলে ফ্যামিলি এমনিতেই ডেভেলপ করবে। একজন কর্মজীবি বাবা পরিবারে কতটুকু সময় দিতে পারে? মা পরিবারকে ২৪ ঘন্টা সময় দিয়ে থাকে। উপরোন্তু সন্তানরা বাবার চেয়ে মাকে খুব বেশি কাছে পায়। তারা মায়ের আদর, স্নেহ, ভালোবাসা পেয়ে বেড়ে উঠতে থাকে। তাই একজন মা যা বলেন সন্তানরা তাই আগ্রহ ভরে করার চেষ্টা করে। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সম্পর্কে মা'কে বুঝাতে পারলে পরিবেশের এমন ছ্যাঁড়াব্যাঁড়া অবস্থারও উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তাই, মা'কে শিক্ষিত করতে পারলে সবকিছুকে শিক্ষিত করার একটা চান্স নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো এই ঝানু মহিলাদের কিভাবে বোঝাবো। এর আগে এখানে সরকারীভাবে এমন উদ্যেগের কম চেষ্টা হয়নি। সবই শুরু হয়ে শেষ হয়ে গেছে। সুবিধে হলো এদের কাছে আমি মোটামুটি পরিচিত। আমার এই পরিচিত তাদের ভেতর বিপ্লব ঘটাতে পারে, তাই সুযোগটা কাজে লাগানোর জন্য উঠেপড়ে লেগে গেলাম।
৫ সদস্যের একটা কমিটি করলাম। এরা ডোনেট করবে। মাসিক যা খরচ হবে তার পুরোটাই এরা বহন করবে। স্কুল ঘর ঠিক করার পর ঘরের মালিক জানালো তাকে ভাড়া দিতে হবে না। কমিটির সবাই এতে ভিষণ খুশি। 'সৃষ্টি' নিয়ে আজম আর মিলনের আগ্রহ দেখে ভালো লাগলো। আমার অবর্তমানে এরা এই কাজটাকে এগিয়ে নিতে পারবে মোটামুটি। অবশেষে চারজন শিক্ষিকার ব্যবস্থা করতে পারা গেল। এদের ৩ জন কোনো টাকা নিবে না। ১ জনকে মাসিক ১০০০ টাকা দিলেই চলবে! পূর্বে দেখতে পেয়েছি প্রায় প্রতিটি প্রোজেক্টের আগে একটা অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হয়। যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে অনেক অনেক কম অর্থনৈতিক প্রেসার 'সৃষ্টিতে' পেলাম। পুরোপুরি গোছগাছ করে সবাইকে নিয়ে স্কুল ঘরে একটা মিটিং এর আয়োজন করা হলো। শুধুমাত্র ছাত্রীদের নিয়ে মিটিং। যারা আসবে তাদেরকে প্রাথমিকভাবে বিনামূল্যে বই, চক, ডাস্টার দেয়া হবে। আমার ধারনা ছিলো লজ্জা-শরম দূরে হটিয়ে ৭/৮জন মতো হয়তো আসবে। সেই অনুযায়ী ১২ জনের জন্য জিনিসপত্র কিনে আনা হয়েছিল। বিপত্তি ঘটলো মিটিংয়ে মহিলাদের উপস্থিতির পর। ৩০/৩৫ জন ছাত্রী দেখে আমার মতই সবাই তাজ্জব! যাই-হোক, ২০ মিনিট টানা ব্রিফ দিলাম। সুবিধে হলো এদের চোখে সহজেই জল এনে ফেলা যায়। এদের একটু ভালোবাসা দেখাতে পারলে এরা মানুষের জন্য কি না করতে পারে? তাদেরকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে :
১। ছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠ্যেদান করা হবে।
২। সপ্তায় ৬ দিন ক্লাশ হবে। ক্লাশ শুরু হবে বিকেল ৩টায়।
৩। ১ জন শিক্ষক সপ্তায় ২টি করে ক্লাশ নিবেন।
৪। সপ্তাহের প্রতি বৃহ:স্পতিবার একটি করে মিটিং হবে। এখানে ছাত্রীদের প্রোগ্রেস, তাদের সমস্যা, অভিযোগ, পারিপার্শ্বিক বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে। অভিযোগ, সমস্যাগুলো আজম লিপিবদ্ধ করে রাখবে। পরের ক্লাশ থেকে তা সংশোধনের চেষ্টা করা হবে।
৫। প্রত্যেক মাসে একটি করে বড় মিটিং হবে। সেখানে কমিটির সবাই উপস্থিত থাকবো। যাবতীয় সমস্যা সমাধান দেয়ার চেষ্টা করা হবে তখন। মজার মজার সব ইভেন্টের মাধ্যমে ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হবে।
৬। কোনো কারণ ছাড়াই কেউ তিন দিন ক্লাশে অনুপস্থিত থাকলে পরবর্তী অনুপস্থিত ক্লাশের জন্য ২ টাকা হারে জরিমানা করা হবে।
৭। আরো কিছু...।
এর মানে হলো আমাকে প্রতি মাসে গ্রামে যেতে হবেই! আমি ত্যাক্ত বিরক্ত হবো না। বরং প্রোজেক্টটা দাঁড়িয়ে গেলে আমার চেয়ে সুখি মানুষ পৃথিবীতে পাওয়া ভার হবে। 'সৃষ্টি' নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। সমস্যা হলো তেমন অরগানাইজ জনোবল নাই। যে চারজন কমিটিতে আছে তারা হাঁ হয়ে আমার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে। আমার চাই অরগানাইজ জনোবল আর পাশে দাঁড়িয়ে আশ্বাস দেবার মতো প্রিয়জন। তেমন পাওয়া ভার। দাঁড়িয়াল ঠাকুরের কবিতাই এখন শেষ সম্বল, "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে..."
Labels:
আশা-নিরাশা,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
না-মানুষ,
মেঘবালিকা,
স্বপ্ন সবুজ
Friday, December 28, 2007
ডিসেম্বর শূণ্য সাত- কিছু ব্যর্থতা, অভিশাপ আর মুঠো মুঠো একাকিত্ব
গুমোট অন্ধকার ফুড়ে শিশির ঝরছে বৃষ্টির মতো। ঝাপসা পৃথিবী জমে গেছে সীমাহীন নিঃস্তব্ধতায়... নিঃসঙ্গতায়... রাশি রাশি ব্যর্থতায়...। ঘুম আসছেনা। বিছানায় শরীর এলানোর প্রশ্নই ওঠে না। চোখ মুদলেই নিজেকে চামড়া ছোলানো জীব মনে হয়। সেই ছোলানো অংশে অজস্র নোনা জল। মানুষের। অনেক অ-নে-ক জ্বালা ওতে। নিজেকে ছোট করে ফেলে, নিজের কাছে। ছোট ভাবতে একদম ইচ্ছে করেনা। তবু আমি ছোটো। স্পষ্ট করে বললে- নীচ।
এই সীমাহীন অসহনীয় অবস্থায় একটা ব্যপার খেয়াল করলাম। সেটা হলো এতো ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধব থাকতেও আমি আমার যন্ত্রনাময় ব্যাপারগুলো নিয়ে কারো সাথে ডিসকাস করতে পারছি না। এক চিমটিওনা। এক বিন্দুও না। আবিস্কার করলাম, আদতেই আমি একজন নিঃসঙ্গ ব্যর্থ মানুষ। আমার কোনো বন্ধু নাই।
কোরবানি হচ্ছি প্রতিটি মূহুর্তে। গলায় ছোরা চালিয়ে জবাই করে মেরে ফেলার চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক জবাইয়ে কতযে অসহনীয় যন্ত্রণা সেটা বোঝানো যাবে না। মরছি সমানে। এখানে-সেখানে। কতোশতো ভাবে। ঈশ্বর কেনোযে এতো এতো কাড়ি কাড়ি অপ্রাপ্যতা ঠেসে ঠেসে আমার লাইফে ইমপোর্ট করলো...। এতো কুমির-বোয়াল ফেলে আমাকেই কিনা গাধাটার পছন্দ হলো! আমি নিশ্চিত ঘাড়ের দারোয়ান দুটো কাঁদতে কাঁদতে এতোদিনে মারা-ই গেছে!
অনেক, অ-নে-ক দূর যেতে পারবো কিনা জানিনা। না যেতে পারলে সেটা হবে ব্যর্থতার উপর ব্যর্থতা। ব্যর্থতার ষোলকলা বলতে যা বুঝায় তা পূর্ণ হবে। স্বার্থপর মানুষের মতো কিছু অনৈতিক সিদ্ধান্ত আর কিছু মানুষকে অবমূল্যায়ণ আমার জীবনের চরম এক গোলকধাঁধা। যেখান থেকেই তুমি শুরু করোনা কেনো ঠিক ঠিক সেই আগের অবস্থানে। ঘুরে ফিরে তুমি আসবে। শুরু করবে নতুন করে। আমি সিদ্ধান্ত যা নেই তা সবই সলিড সেটা বলবো না। তবে ম্যাক্সিমাম সলিড। টেকশই। সে নিজের প্রয়োজনেই হোক কিংবা প্রিয় মানুষের। তবে নিজের জন্য যতোগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব বুঝে শুনে নিতে পারিনি। কোনো সফল মানুষও বলতে পারবে না তার সব সিদ্ধান্ত টেকশই ছিলো। সিদ্ধান্ত নেবার আগে আবেগ কাজ করবে। ক্ষোভ থাকবে। অজুহাতের পুঁজি থাকবে। আর একটা বাচ্চা ছেলে ছাড়া তেমন কিছুইতো নই আমি। বয়স কাঁড়ি কাঁড়ি বাড়ছে। তবু অনেক কিছুর ব্যবধানে জড়িয়ে নিজেকে ক্ষুদ্র জীব ছাড়া তেমন কিছু ভাবতে পারিনা। চাইনা। বাঁধনে জড়ানো মানে একটা সার্কেলে আবদ্ধ হওয়া। জমে যাওয়া। তুমি চাইলেই সেই সীমানা অতিক্রম করতে পারো না। তুমি শৃঙ্খলের নিয়মে বাঁধা তখন। তোমাকে অনেক কিছু বুঝে শুনে করতে হবে। বাইরের পৃথিবীকে তুচ্ছজ্ঞান করে চার দেয়ালে সুখের ছবি আঁকতে হবে। কাউকে নিয়ে মিছেমিছি নাটক করতে হবে। প্রতিদিন। এতোসব আমার জন্য নয়। ফেলে আসা জীবন আমার কাছে যতটুকু চায় ততটুকু যদি নাইবা দিতে পারি তো এই জীবনের কোনো মানে হয়না। আমি ফেলে আসা জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আজ থেকে ১ বছর, ১০ বছর, ২০ বছর পরেও আমার এই ধারনার পেখম রঙ হারাবে না। মানুষ সুখস্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। আমিও চাই। ব্যাস। আমার অভিলাস বলো, চাহিদা বলো, অভিসার বলো... তা এ-ই।
ডিসেম্বর শূণ্য সাত। ডিসেম্বর শূণ্য সাত। অসহনীয় যন্ত্রণা। অসহনীয় যন্ত্রণা...।
------------------------------
সময় : ২৬ ডিসেম্বরের কোনো এক মৃত রাত।
স্থান : পল্লবী, ঢাকা।
এই সীমাহীন অসহনীয় অবস্থায় একটা ব্যপার খেয়াল করলাম। সেটা হলো এতো ঘনিষ্ট বন্ধু-বান্ধব থাকতেও আমি আমার যন্ত্রনাময় ব্যাপারগুলো নিয়ে কারো সাথে ডিসকাস করতে পারছি না। এক চিমটিওনা। এক বিন্দুও না। আবিস্কার করলাম, আদতেই আমি একজন নিঃসঙ্গ ব্যর্থ মানুষ। আমার কোনো বন্ধু নাই।
কোরবানি হচ্ছি প্রতিটি মূহুর্তে। গলায় ছোরা চালিয়ে জবাই করে মেরে ফেলার চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক জবাইয়ে কতযে অসহনীয় যন্ত্রণা সেটা বোঝানো যাবে না। মরছি সমানে। এখানে-সেখানে। কতোশতো ভাবে। ঈশ্বর কেনোযে এতো এতো কাড়ি কাড়ি অপ্রাপ্যতা ঠেসে ঠেসে আমার লাইফে ইমপোর্ট করলো...। এতো কুমির-বোয়াল ফেলে আমাকেই কিনা গাধাটার পছন্দ হলো! আমি নিশ্চিত ঘাড়ের দারোয়ান দুটো কাঁদতে কাঁদতে এতোদিনে মারা-ই গেছে!
অনেক, অ-নে-ক দূর যেতে পারবো কিনা জানিনা। না যেতে পারলে সেটা হবে ব্যর্থতার উপর ব্যর্থতা। ব্যর্থতার ষোলকলা বলতে যা বুঝায় তা পূর্ণ হবে। স্বার্থপর মানুষের মতো কিছু অনৈতিক সিদ্ধান্ত আর কিছু মানুষকে অবমূল্যায়ণ আমার জীবনের চরম এক গোলকধাঁধা। যেখান থেকেই তুমি শুরু করোনা কেনো ঠিক ঠিক সেই আগের অবস্থানে। ঘুরে ফিরে তুমি আসবে। শুরু করবে নতুন করে। আমি সিদ্ধান্ত যা নেই তা সবই সলিড সেটা বলবো না। তবে ম্যাক্সিমাম সলিড। টেকশই। সে নিজের প্রয়োজনেই হোক কিংবা প্রিয় মানুষের। তবে নিজের জন্য যতোগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি সব বুঝে শুনে নিতে পারিনি। কোনো সফল মানুষও বলতে পারবে না তার সব সিদ্ধান্ত টেকশই ছিলো। সিদ্ধান্ত নেবার আগে আবেগ কাজ করবে। ক্ষোভ থাকবে। অজুহাতের পুঁজি থাকবে। আর একটা বাচ্চা ছেলে ছাড়া তেমন কিছুইতো নই আমি। বয়স কাঁড়ি কাঁড়ি বাড়ছে। তবু অনেক কিছুর ব্যবধানে জড়িয়ে নিজেকে ক্ষুদ্র জীব ছাড়া তেমন কিছু ভাবতে পারিনা। চাইনা। বাঁধনে জড়ানো মানে একটা সার্কেলে আবদ্ধ হওয়া। জমে যাওয়া। তুমি চাইলেই সেই সীমানা অতিক্রম করতে পারো না। তুমি শৃঙ্খলের নিয়মে বাঁধা তখন। তোমাকে অনেক কিছু বুঝে শুনে করতে হবে। বাইরের পৃথিবীকে তুচ্ছজ্ঞান করে চার দেয়ালে সুখের ছবি আঁকতে হবে। কাউকে নিয়ে মিছেমিছি নাটক করতে হবে। প্রতিদিন। এতোসব আমার জন্য নয়। ফেলে আসা জীবন আমার কাছে যতটুকু চায় ততটুকু যদি নাইবা দিতে পারি তো এই জীবনের কোনো মানে হয়না। আমি ফেলে আসা জীবন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আজ থেকে ১ বছর, ১০ বছর, ২০ বছর পরেও আমার এই ধারনার পেখম রঙ হারাবে না। মানুষ সুখস্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। আমিও চাই। ব্যাস। আমার অভিলাস বলো, চাহিদা বলো, অভিসার বলো... তা এ-ই।
ডিসেম্বর শূণ্য সাত। ডিসেম্বর শূণ্য সাত। অসহনীয় যন্ত্রণা। অসহনীয় যন্ত্রণা...।
------------------------------
সময় : ২৬ ডিসেম্বরের কোনো এক মৃত রাত।
স্থান : পল্লবী, ঢাকা।
Labels:
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
না-মানুষ,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা
Monday, December 3, 2007
এক আকাশ, স্বপ্ন
মিথুন রাশির জাতকেরা কেমন হয়? আকাশ অবশ্য কখনো রাশি-টাশি নিয়ে অতো গভিরভাবে নাড়াচাড়ি করেনি। তবে নিজেকে দিয়ে সে যা বুঝে তা হলো- মিথুন রাশির জাতকেরা হয়- প্রচন্ড ঘাড়ট্যারা, আত্মভোলা এবং চাপা রোমান্টিক। অন্যকিছুও হতে পারে। তবে ওর ব্যাপারটা আলাদা। সে প্রিয় মানুষকে যেমন ভালোবাসতে পারে, তেমন ঘৃনা করতে পারেনা। ভালোবাসা সম্পর্কে তার যে ধ্যনধারনা সেটাও কিন্তু কমজোরী নয়। তার মতে, হাসনাহেনার সুভাশ ফুলে নাক ডুবিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়। এ থেকে যতদূরে তুমি ছুটবে তত তুমি এর সুভাশ পাবে। আকাশ দূর থেকে সুভাশ নিতে ভালোবাসে। এ বয়সে অনেকেই এক-আধটু ভুলভাল করে থাকে। তবু, কারো জন্য উন্মুখ হয়ে অপেক্ষায় থাকা, দিবানিশি পরস্পর বিরোধী দুটো স্বত্ত্বার সাথে যুদ্ধ করা, নিজের সমস্ত ধ্যনধারনার ঘষামাজা করা... ভুলভালের মধ্যে পরেনা। যদিও আকাশ অপেক্ষাকে মনে-প্রাণে ঘৃনা করে। তারপরও সে কারো কারো জন্য হঠাৎ হঠাৎ অকারণে অপেক্ষা করে। কেন করে সে তা জানেনা।
মানুষের এক সহজাত প্রবৃত্তি হলো- যা সে পায়না তার জন্য সে ভিষন হায়-হুতাশ করে। যা সহজে পায় তা অবজ্ঞা ভরে দূরে সরিয়ে রাখে। আকাশ নিজেকে কম চেনেনা। তবু, মাঝে মাঝে তার নিজেরে নিদারুন করুন মনে হয়। প্রচন্ড অসহায় লাগে তখন। ভিষন একা আর ভিষন মুমূর্ষ মুহুর্ত্বে মানুষ প্রিয়জনের কাছে আশ্রয় চায়। সে চায়না। সে ভিষন মূর্খ পুজারী। সে ফুল দেখবে কিন্তু ছিঁড়বে না। সে ফুল নিজের করে চাইবে কিন্তু পাহারা দিবে না, গাছে পানি দেবে না।
মানুষই সম্ভবত একমাত্র জীব যে নিজেকে খুব দ্রুত বদলে ফেলতে পারে। আকাশ সেটা পারেনা। তার ধারনা মানুষ শুধুমাত্র তার বাইরের রূপটাই বদলাতে পারে, ভেতরটা নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে তার বেশ ধান্দা লাগে। যা সে জানছে কিংবা যা সে ভাবছে তার পুরোটাই মিথ্যে নয়তো? মানুষতো প্রতিটি সেকেন্ড মরছে। প্রতিটি সেকেন্ড মানুষ এক একটা নতুন মানুষরূপে আবির্ভূত হচ্ছে। মানুষের ভেতরটাও বদলে যেতে পারে। মানুষের বাইরের পঁচন ভেতরে চলে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আজকাল ওর চিন্তা-ভাবনারা বড্ড বেশি ঠোঁটকাটা হয়েছে। তবু তারা মানুষকে ভালোবাসে। কারণ মানুষকে তাদের যান্ত্রিক আর কৃত্রিম বলে মনে হয়না। প্রতিটি মানুষই রহস্যঘেরা এক আঁধার। ওদের ভেতরটা শতোমুখী ইচ্ছে, স্বপ্ন, ঘৃনা, ভালোবাসায় ঠাসা। কিছু মানুষ আদতেই একটু অন্যরকম হয়। তারপরও অন্যসব মানুষের মতইতো তারা। তারা মরছে। প্রতিটি সেকেন্ড। প্রতিটি সেকেন্ড তারা নতুন করে কিছু ভাবছে। প্রতিটি মুহুর্তে তারা স্বপ্ন দেখছে নতুন কিছু নিয়ে। প্রতিটি সেকেন্ড তারা নতুন করে ভাবনার ঘুড়ি উড়োচ্ছে। মানুষ তাই সাংঘাতিক এক রাহস্যিক বিষয়। একজন মানুষের সাথে অন্য এক মানুষের কোনো মিল মহব্বত থাকার কথা নয়। তবু অনেক কিছু মিলে যায়। সেটাতো অন্য সব ক্ষেত্রেও মিলবে। শামুককে তার শক্ত খোলস দেখে যেভাবে সনাক্ত করা যায় তেমন মানুষকেও চেনা কঠিন কিছু নয়। শামুকের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে ধীরালয়ে হেঁটে চলা, কোনো বিপদ দেখলে খোলশের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে ফেলা। তাই কোনো শামুক যদি মনে করে যে অমুক শামুকের সাথে তার বেশ মেলে সেটা কিন্তু যুক্তিহীন নয়। যুক্তিহীন হবে তখনই যখন কেউ বলবে- অমুক শামুককে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি, তখন। আকাশ অবশ্য এই ব্যাপারটা নিয়ে মনে মনে খুব হাসে। সে হয়তো কিছু মানুষকে হাড়ে হাড়েই চেনে। তার রহস্যঘেরা যন্ত্রণাময় জীবনে এ ব্যাপারটা একটা বিনোদন। পাখি যতই তুমি উড়ে বেড়াও, তোমায় আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। ইচ্ছে করলে তোমায় আমি উড়িয়ে দিতে পারি, ইচ্ছে করলে তোমায় খাঁচায় পুরতেও পারি... আকাশ মাঝে মাঝে খুব ভাবে উপেক্ষা সরিয়ে বুকে টেনে তাকে এসব শুনাতে। সে কয়েক সেকেন্ড। তারপর ভুলে যায়।
বর্ষা শেষ হয়েছে। বৃষ্টি নেই। বৃষ্টির টুপটাপটুপটাপ শব্দেরাও নেই। বেঁচে গেছি, আকাশ হাসে, একমনে। বৃষ্টির শব্দে তার বিয়ে করতে ইচ্ছে করে। এ ব্যাপারটা চিন্তা করলেই সে চুপসে যায়। তারপর নি:শব্দে হাঁটতে থাকে গন্তব্যহীন। বিয়ে করতে চাইলেতো আর করা যায়না। আকাশের নিজেরে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার ক্ষমতা নাই। তবু আকাশ বিয়ে করবে, বুড়ো বয়সে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটার সময়। তার একটা ইচ্ছে আছে বিয়ের পর বুড়িকে প্রতিদিন একটি করে চিঠি লিখবে! কি লিখবে তাতে? আকাশ যেমন মানুষ- লিখবে, আজকে আলু-ভর্তা সবচে' ফালতু হয়েছে। এমন কান্না-কাটি রান্না করলে দেশান্তরে যাবো। কিংবা। কিংবা। কিংবা? হা হা হা। এমনই। আকাশের ভালোবাসা এবং স্বপ্নো তীরহিত মেঘের মতো। ও ছোঁয়া যায়, একটু অন্যরকম করে। সুপ্ত ভালোবাসাটাও কেড়ে নেয়া যায়... বিমূর্ত ভালোবেসে।
মানুষের এক সহজাত প্রবৃত্তি হলো- যা সে পায়না তার জন্য সে ভিষন হায়-হুতাশ করে। যা সহজে পায় তা অবজ্ঞা ভরে দূরে সরিয়ে রাখে। আকাশ নিজেকে কম চেনেনা। তবু, মাঝে মাঝে তার নিজেরে নিদারুন করুন মনে হয়। প্রচন্ড অসহায় লাগে তখন। ভিষন একা আর ভিষন মুমূর্ষ মুহুর্ত্বে মানুষ প্রিয়জনের কাছে আশ্রয় চায়। সে চায়না। সে ভিষন মূর্খ পুজারী। সে ফুল দেখবে কিন্তু ছিঁড়বে না। সে ফুল নিজের করে চাইবে কিন্তু পাহারা দিবে না, গাছে পানি দেবে না।
মানুষই সম্ভবত একমাত্র জীব যে নিজেকে খুব দ্রুত বদলে ফেলতে পারে। আকাশ সেটা পারেনা। তার ধারনা মানুষ শুধুমাত্র তার বাইরের রূপটাই বদলাতে পারে, ভেতরটা নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে তার বেশ ধান্দা লাগে। যা সে জানছে কিংবা যা সে ভাবছে তার পুরোটাই মিথ্যে নয়তো? মানুষতো প্রতিটি সেকেন্ড মরছে। প্রতিটি সেকেন্ড মানুষ এক একটা নতুন মানুষরূপে আবির্ভূত হচ্ছে। মানুষের ভেতরটাও বদলে যেতে পারে। মানুষের বাইরের পঁচন ভেতরে চলে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। আজকাল ওর চিন্তা-ভাবনারা বড্ড বেশি ঠোঁটকাটা হয়েছে। তবু তারা মানুষকে ভালোবাসে। কারণ মানুষকে তাদের যান্ত্রিক আর কৃত্রিম বলে মনে হয়না। প্রতিটি মানুষই রহস্যঘেরা এক আঁধার। ওদের ভেতরটা শতোমুখী ইচ্ছে, স্বপ্ন, ঘৃনা, ভালোবাসায় ঠাসা। কিছু মানুষ আদতেই একটু অন্যরকম হয়। তারপরও অন্যসব মানুষের মতইতো তারা। তারা মরছে। প্রতিটি সেকেন্ড। প্রতিটি সেকেন্ড তারা নতুন করে কিছু ভাবছে। প্রতিটি মুহুর্তে তারা স্বপ্ন দেখছে নতুন কিছু নিয়ে। প্রতিটি সেকেন্ড তারা নতুন করে ভাবনার ঘুড়ি উড়োচ্ছে। মানুষ তাই সাংঘাতিক এক রাহস্যিক বিষয়। একজন মানুষের সাথে অন্য এক মানুষের কোনো মিল মহব্বত থাকার কথা নয়। তবু অনেক কিছু মিলে যায়। সেটাতো অন্য সব ক্ষেত্রেও মিলবে। শামুককে তার শক্ত খোলস দেখে যেভাবে সনাক্ত করা যায় তেমন মানুষকেও চেনা কঠিন কিছু নয়। শামুকের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে ধীরালয়ে হেঁটে চলা, কোনো বিপদ দেখলে খোলশের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে ফেলা। তাই কোনো শামুক যদি মনে করে যে অমুক শামুকের সাথে তার বেশ মেলে সেটা কিন্তু যুক্তিহীন নয়। যুক্তিহীন হবে তখনই যখন কেউ বলবে- অমুক শামুককে আমি হাড়ে হাড়ে চিনি, তখন। আকাশ অবশ্য এই ব্যাপারটা নিয়ে মনে মনে খুব হাসে। সে হয়তো কিছু মানুষকে হাড়ে হাড়েই চেনে। তার রহস্যঘেরা যন্ত্রণাময় জীবনে এ ব্যাপারটা একটা বিনোদন। পাখি যতই তুমি উড়ে বেড়াও, তোমায় আমি হাড়ে হাড়ে চিনি। ইচ্ছে করলে তোমায় আমি উড়িয়ে দিতে পারি, ইচ্ছে করলে তোমায় খাঁচায় পুরতেও পারি... আকাশ মাঝে মাঝে খুব ভাবে উপেক্ষা সরিয়ে বুকে টেনে তাকে এসব শুনাতে। সে কয়েক সেকেন্ড। তারপর ভুলে যায়।
বর্ষা শেষ হয়েছে। বৃষ্টি নেই। বৃষ্টির টুপটাপটুপটাপ শব্দেরাও নেই। বেঁচে গেছি, আকাশ হাসে, একমনে। বৃষ্টির শব্দে তার বিয়ে করতে ইচ্ছে করে। এ ব্যাপারটা চিন্তা করলেই সে চুপসে যায়। তারপর নি:শব্দে হাঁটতে থাকে গন্তব্যহীন। বিয়ে করতে চাইলেতো আর করা যায়না। আকাশের নিজেরে নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার ক্ষমতা নাই। তবু আকাশ বিয়ে করবে, বুড়ো বয়সে খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটার সময়। তার একটা ইচ্ছে আছে বিয়ের পর বুড়িকে প্রতিদিন একটি করে চিঠি লিখবে! কি লিখবে তাতে? আকাশ যেমন মানুষ- লিখবে, আজকে আলু-ভর্তা সবচে' ফালতু হয়েছে। এমন কান্না-কাটি রান্না করলে দেশান্তরে যাবো। কিংবা। কিংবা। কিংবা? হা হা হা। এমনই। আকাশের ভালোবাসা এবং স্বপ্নো তীরহিত মেঘের মতো। ও ছোঁয়া যায়, একটু অন্যরকম করে। সুপ্ত ভালোবাসাটাও কেড়ে নেয়া যায়... বিমূর্ত ভালোবেসে।
Labels:
আশা-নিরাশা,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
না-মানুষ,
মেঘবালিকা,
স্বপ্ন সবুজ
Saturday, December 1, 2007
উপেক্ষা
উপেক্ষা
--নির্মলেন্দু গুণ
বিরহ চাই,
ভালোবেসে কার্পণ্য শিখিনি৷
তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
সমস্ত বোধের উত্স গ্রাস করা প্রেম; যদি চাও
ভুলে যাবো, তুমি শুধু কাছে এসে উপেক্ষা দেখাও৷
আমি কি ডরাই সখি,
ভালোবাসা ভিখারি বিরহে?
--নির্মলেন্দু গুণ
বিরহ চাই,
ভালোবেসে কার্পণ্য শিখিনি৷
তোমার উপেক্ষা পেলে অনায়াসে ভুলে যেতে পারি
সমস্ত বোধের উত্স গ্রাস করা প্রেম; যদি চাও
ভুলে যাবো, তুমি শুধু কাছে এসে উপেক্ষা দেখাও৷
আমি কি ডরাই সখি,
ভালোবাসা ভিখারি বিরহে?
Labels:
চলে যাচ্ছে দিন...,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা
Friday, November 30, 2007
মৃত রাতের অসুস্থ্যতা
মশা এরোসোলকে থোড়াই কেয়ার করে। এ ছিটিয়ে কোনো ফায়দা হয়না। কিছু মশা অবশ্য ডিগবাজি খেয়ে এরোসোলের উপকারীতা জাহির করার চেষ্টা করে, কিন্তু ঐ পর্যন্তই। ডিগবাজি খাওয়া মশারা এমনিই মরে, এরোসোল ছিটালেই কি, না ছিটালে কি। আমার সাথে কমজোরী মশাদের কিছুটা মিল আছে। আমার উথান কি, আবার পতনই বা কি? আমিতো পতিত হয়েই আছি। পাহাড়াদারদের হুইশেল শুনতে পাচ্ছি। মৃত রাত। শরীরের সব স্নায়ু আরাম চাচ্ছে, মাথার প্রতিটি অনু-পরমানু ঘুম চাচ্ছে, কিন্তু ঘুম আসছে না। এ আমার দোষ না। এ এক ব্যামো। এ ব্যামোর কোনো চিকিৎসা নেই।
নিরাময়হীন ব্যামো নিয়ে সুখে আছি। সারাদিন কেটেছে ব্যস্ততায়। সকালেতো ঘুম থেকে উঠতে পারিনা। একজন ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলো। সাথে অবশ্য ফ্রি কিছু টিপস। ও আমার দ্বারা হবেনা। সাউন্ড হেলথ এবং মাইন্ড নিয়ে দিব্বি সুস্থ্য সবল একজন মানুষ আমি। আমার আবার বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন কি? উঠেই পিসিটা অন করলাম। গান বাজছে- 'এই নীল মনিহার'। ভালো একটা গান। ঠিক নয়টায় আমরা পল্লবী বাসষ্ট্যান্ডে মিলিত হলাম। আজকে আমার সহকারী বাংলা কলেজের এক ছোট ভাই। ছেলেটা দারুন। কথা বলে টনটন এবং অবশ্য খুব সুন্দর সৎ ছেলে। আই লাইক হীম। ঘটনার মতো ঘটনা ঘটেছে অনেক। ওসব বলতে ইচ্ছে করছে না। নিজের কথা বলি। হরিবল। সবইতো নিজের কথা! শুরু করি তবে পরের কথা। বড় চাচা ইন্তেকাল ফরমাইবেন শিঘ্রির। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমায় বারবার ফোন করা হচ্ছে। বারবার বলেছি- আসছি। যাওয়া হচ্ছেনা। বুঝতে পারছিনা যাবো কি যাবো না। বউ থাকলে ভালো হতো। জোর করে অলস এই আমাকে ঐ বাড়িতে পাঠাতো। কাছেইতো। গাজীপুর অতো দূর না। কিন্তু আমি ঐ ব্যাটাকে প্রচুর ঘৃনা করি। প্রচুর। মরুক। উহু এখন অনুভূতিটা অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। আর যাইহোক, জ্ঞাতী গুষ্ঠিতো। রক্তের টান এই তবে! বুকটা একটু কাঁপলো কি? ধুররররর ওসবে আমি বিশ্বাস করিনা।
আম্মা ভালো নেই। সে আমি ভালো বুঝি। অপারেশন কবে করাবো? জবাব জানা নাই। সবাই নিশ্চুপ। কিন্তু আম্মা যেটা ভাবছে সেটা কখনোই হবেনা। সে আমি জানি। আমি আমার নিয়তি পরির্বতন করতে পারি। এসব ভাবতে গেলে সব জট পাকিয়ে যায়। ইসসস বউ থাকলে ভালো হতো। বউ আমাকে পিটুনি দিয়ে ঠিক করে দিতো। আম্মার ছেলে বানিয়ে ছাড়তোই ছাড়তো। কিইবা আর করার। বউ নেই। তাই সংসার দরদী হতে পারছিনে।
সে-যাইহোক, বেশি ভাবের কথা বলা শুরু হয়ে গেছে। ওসব বাদ। নতুন কিছু চিন্তা করা যাক। ভাবনারা অমনই, তুমি ওকে পাশে বসিয়ে আদর করবে, সে উঠবে তোমার কোলে। কোলে উঠিয়ে আদর করবে, ও উঠে যাবে তোমার ঘাড়ে, তারপর তোমার মাথায় উঠে হিসু করে দিবে। ভাবনারা অমনই। ভাবতে আমার ঘৃনা লাগেনা। আমি ভাবতে থাকি। কতো কিছু। এইযে ঘুম আসছেনা কেন সেটা নিয়েও ভাবছি। এতো শক্ত হৃদয় নিয়ে কিকরে বেঁচে আছি সেটা নিয়েও ভাবছি। সমানে ভাবছি ফালতু কিছু মানুষ নিয়ে মাঝে মাঝে কেনো ভাবি, সেটা নিয়েও। হুররর আমি কি ভাবের কারখানা নাকি? অতো ভাবনা ভেবে আমারই বা কি লাভ! উহু ভুল বললাম। লাভ আছে বৈকি এবং আমার সাথে যে পাড়ার নুনু পাগলার দারুন মিল সে খবরও আমি রাখি। হা হা হা হা হা হা।
ও-য়েল। বেশি আনন্দ করা ভালো না। বেশি চিনি দিয়ে চা বানালে সেটা ভালো লাগেনা। চায়ের সাথে থাকবে, পরিমান মতো চিনি, দুধ আর লিকার। যেকোন একটার উপস্থিতি বেড়ে গেলেই বাঁধবে বিপত্তি। আমার লাইফে অবশ্য বিপত্তিটাই বেশি। কখনো ভালোবাসা উথলে যায়, কখনো ঘৃনা। কখনো প্রাপ্তি সীমাহীন, কখনো অপ্রাপ্তি। কখনো বসন্ত, কখনো ধু ধু শূণ্যতা। ধুররর শালা মর তুই কলাগাছে ফাঁস দিয়ে। সবচেয়ে সিক্রেট একটা কথা বলি তোকে- আমি মানুষটা অবশ্যই খারাপ না। কিন্তু আবার ভালোও নই। আছেনা কিছু অসুস্থ্য মানুষ, পৃথিবীতে, যারা যতোসব অসুস্থ্য কথা ভাবে- আমি ঠিক তেমন একজন মানুষ। হুমমমম আমি অসুস্থ্য একজন মানুষ। আমার মতো মানুষের পৃথিবীতে না থাকাই বেটার। প্রশ্ন করিস না অসুস্থ্যটা আবার কেমনতর অসুস্থ্যতা। করে ফেলেছিস?! ঠি...ক আছে, তোকে বলতে পারি, কারণ তোকে আমি ভালো পাই। অসুস্থ্যতা বুঝতে হলে- আমার সামনে তোকে বসতে হবে। মুখোমুখি। আমার হাত ধরতে হবে। উহু এ হাতের পর নিরাপত্তা খুঁজিস না। ঐ জিনিসটা হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি কোথাও তুলে রাখা আছে। এবার আমার চোখে তাকিয়ে তোকে বিশ্ব দেখতে হবে। আ-মা-র বিশ্ব। তোর মতো করে। আমার শ্বাস তোকে উপলব্ধি করতে হবে। আমার সবুজ তোকে অনুভব করতে হবে। আমার ভালো লাগা, তোর আঁচলে বাঁধতে হবে। তোর চোখের ঘন মায়ায় আলো রেখে আমায় ভালোবাসতে হবে... গভির ভাবে... কিছুটা আমার মতো করে... কিছুটা তোর মতো করে...।
চিৎকার-১ : 'তুই' শব্দের সাথে কোন জীবিত মানুষের সম্পর্ক নেই।
চিৎকার-২ : যন্ত্রণাটা লেখা হয়েছে ২৯ নভেম্বরের মৃত রাতে।
নিরাময়হীন ব্যামো নিয়ে সুখে আছি। সারাদিন কেটেছে ব্যস্ততায়। সকালেতো ঘুম থেকে উঠতে পারিনা। একজন ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিলো। সাথে অবশ্য ফ্রি কিছু টিপস। ও আমার দ্বারা হবেনা। সাউন্ড হেলথ এবং মাইন্ড নিয়ে দিব্বি সুস্থ্য সবল একজন মানুষ আমি। আমার আবার বাড়তি কিছু করার প্রয়োজন কি? উঠেই পিসিটা অন করলাম। গান বাজছে- 'এই নীল মনিহার'। ভালো একটা গান। ঠিক নয়টায় আমরা পল্লবী বাসষ্ট্যান্ডে মিলিত হলাম। আজকে আমার সহকারী বাংলা কলেজের এক ছোট ভাই। ছেলেটা দারুন। কথা বলে টনটন এবং অবশ্য খুব সুন্দর সৎ ছেলে। আই লাইক হীম। ঘটনার মতো ঘটনা ঘটেছে অনেক। ওসব বলতে ইচ্ছে করছে না। নিজের কথা বলি। হরিবল। সবইতো নিজের কথা! শুরু করি তবে পরের কথা। বড় চাচা ইন্তেকাল ফরমাইবেন শিঘ্রির। ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমায় বারবার ফোন করা হচ্ছে। বারবার বলেছি- আসছি। যাওয়া হচ্ছেনা। বুঝতে পারছিনা যাবো কি যাবো না। বউ থাকলে ভালো হতো। জোর করে অলস এই আমাকে ঐ বাড়িতে পাঠাতো। কাছেইতো। গাজীপুর অতো দূর না। কিন্তু আমি ঐ ব্যাটাকে প্রচুর ঘৃনা করি। প্রচুর। মরুক। উহু এখন অনুভূতিটা অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। আর যাইহোক, জ্ঞাতী গুষ্ঠিতো। রক্তের টান এই তবে! বুকটা একটু কাঁপলো কি? ধুররররর ওসবে আমি বিশ্বাস করিনা।
আম্মা ভালো নেই। সে আমি ভালো বুঝি। অপারেশন কবে করাবো? জবাব জানা নাই। সবাই নিশ্চুপ। কিন্তু আম্মা যেটা ভাবছে সেটা কখনোই হবেনা। সে আমি জানি। আমি আমার নিয়তি পরির্বতন করতে পারি। এসব ভাবতে গেলে সব জট পাকিয়ে যায়। ইসসস বউ থাকলে ভালো হতো। বউ আমাকে পিটুনি দিয়ে ঠিক করে দিতো। আম্মার ছেলে বানিয়ে ছাড়তোই ছাড়তো। কিইবা আর করার। বউ নেই। তাই সংসার দরদী হতে পারছিনে।
সে-যাইহোক, বেশি ভাবের কথা বলা শুরু হয়ে গেছে। ওসব বাদ। নতুন কিছু চিন্তা করা যাক। ভাবনারা অমনই, তুমি ওকে পাশে বসিয়ে আদর করবে, সে উঠবে তোমার কোলে। কোলে উঠিয়ে আদর করবে, ও উঠে যাবে তোমার ঘাড়ে, তারপর তোমার মাথায় উঠে হিসু করে দিবে। ভাবনারা অমনই। ভাবতে আমার ঘৃনা লাগেনা। আমি ভাবতে থাকি। কতো কিছু। এইযে ঘুম আসছেনা কেন সেটা নিয়েও ভাবছি। এতো শক্ত হৃদয় নিয়ে কিকরে বেঁচে আছি সেটা নিয়েও ভাবছি। সমানে ভাবছি ফালতু কিছু মানুষ নিয়ে মাঝে মাঝে কেনো ভাবি, সেটা নিয়েও। হুররর আমি কি ভাবের কারখানা নাকি? অতো ভাবনা ভেবে আমারই বা কি লাভ! উহু ভুল বললাম। লাভ আছে বৈকি এবং আমার সাথে যে পাড়ার নুনু পাগলার দারুন মিল সে খবরও আমি রাখি। হা হা হা হা হা হা।
ও-য়েল। বেশি আনন্দ করা ভালো না। বেশি চিনি দিয়ে চা বানালে সেটা ভালো লাগেনা। চায়ের সাথে থাকবে, পরিমান মতো চিনি, দুধ আর লিকার। যেকোন একটার উপস্থিতি বেড়ে গেলেই বাঁধবে বিপত্তি। আমার লাইফে অবশ্য বিপত্তিটাই বেশি। কখনো ভালোবাসা উথলে যায়, কখনো ঘৃনা। কখনো প্রাপ্তি সীমাহীন, কখনো অপ্রাপ্তি। কখনো বসন্ত, কখনো ধু ধু শূণ্যতা। ধুররর শালা মর তুই কলাগাছে ফাঁস দিয়ে। সবচেয়ে সিক্রেট একটা কথা বলি তোকে- আমি মানুষটা অবশ্যই খারাপ না। কিন্তু আবার ভালোও নই। আছেনা কিছু অসুস্থ্য মানুষ, পৃথিবীতে, যারা যতোসব অসুস্থ্য কথা ভাবে- আমি ঠিক তেমন একজন মানুষ। হুমমমম আমি অসুস্থ্য একজন মানুষ। আমার মতো মানুষের পৃথিবীতে না থাকাই বেটার। প্রশ্ন করিস না অসুস্থ্যটা আবার কেমনতর অসুস্থ্যতা। করে ফেলেছিস?! ঠি...ক আছে, তোকে বলতে পারি, কারণ তোকে আমি ভালো পাই। অসুস্থ্যতা বুঝতে হলে- আমার সামনে তোকে বসতে হবে। মুখোমুখি। আমার হাত ধরতে হবে। উহু এ হাতের পর নিরাপত্তা খুঁজিস না। ঐ জিনিসটা হৃদযন্ত্রের কাছাকাছি কোথাও তুলে রাখা আছে। এবার আমার চোখে তাকিয়ে তোকে বিশ্ব দেখতে হবে। আ-মা-র বিশ্ব। তোর মতো করে। আমার শ্বাস তোকে উপলব্ধি করতে হবে। আমার সবুজ তোকে অনুভব করতে হবে। আমার ভালো লাগা, তোর আঁচলে বাঁধতে হবে। তোর চোখের ঘন মায়ায় আলো রেখে আমায় ভালোবাসতে হবে... গভির ভাবে... কিছুটা আমার মতো করে... কিছুটা তোর মতো করে...।
চিৎকার-১ : 'তুই' শব্দের সাথে কোন জীবিত মানুষের সম্পর্ক নেই।
চিৎকার-২ : যন্ত্রণাটা লেখা হয়েছে ২৯ নভেম্বরের মৃত রাতে।
Labels:
চলে যাচ্ছে দিন...,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা,
স্বপ্ন সবুজ
Monday, November 26, 2007
ভেবোনা মিছে কবি
আমি এখন ঘুমোতে পারিনা। রাতে ঘুম হয়না। কেন হয়না সেটা আমি নিজেও জানিনা। কিংবা হয়তো জানি। এ আমি বলতে পারবো না। বুঝাতে পারবোনা। কতো হাবিজাবি চিন্তা-ভাবনা... সব বিছানায় গেলে জেগে ওঠে। একটানা। আঠালো। বাংলা সিনেমার মতো দীর্ঘ। রাতের বেশির ভাগ সময় কাটে তাই ছাদে শুয়ে বসে। ইদানিং তাও হচ্ছে না। মশার ভৌ শব্দ আমার জঘন্য লাগে। তদোপরী শীত নেমে গেছে। আজ অবশ্য আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ। চারদিক ঝলমল করছে। রুপোর মতো। বাড়ির সামনে বিরাট হাসনা-হেনাটা পৃথিবীকে সুরভিত করছে হালকাচালে। কোথাও কেউ নেই। নিরব। কাছে কোথাও আত্মনার্ধ করে কেঁদে ওঠে কোনো পথ কুকুর। তারপর আবার সেই ঘোর নিস্তব্ধতা। পূর্ণিমা নিয়ে আমি ক্লাশ নাইন/টেনে কয়েকটা কবিতা লিখেছি। ওসব হারিয়ে টারিয়ে গেছে। খুব অগোছানো মানুষ আমি। কোথাও গোছগাছ নেই আমার। না ভেতরে, না বাইরে। এখন কবিতা লিখতে ইচ্ছে করেনা, কিংবা এ নিয়ে দুয়েক লাইন ডায়রীর পাতা জুড়ে- লিখতে ইচ্ছে করেনা। বড় অলস আমি। এই আলসে মাখা মনে হঠাৎ হঠাৎ হা হা করে ওঠে, এখন। কেনো ওঠে জানিনা।
তুই কখনো কোনো মানুষকে মরতে দেখেছিস? আমি দেখেছি। কেমন অসহায় থাকে তখন সে। কেমন ঘোরতর এক শূণ্যতা থাকে তার সবকিছু জুড়ে। থাকে তার চারপাশে অদ্ভুত, অচেনা-অজানা এক ধোঁয়াটে গন্ধ। এসব যদিওবা সহ্য করা যায় কিন্তু মৃত মানুষের চেহারা আমি সহ্য করতে পারিনা, একদম। ওতে আমি আলো দেখিনা, হাসি দেখিনা, চোখের মায়াময় দৃষ্টি দেখিনা। প্রথম যাকে মরতে দেখেছিলাম তখন সেটা উপলব্ধি করার মতো বয়স ছিলোনা। দ্বিতীয়বার যাকে মরতে দেখলাম এবং যে আমার হাতের উপরই মারা গেলো তার ঘন্টা কয়েক আগ পর্যন্ত আমি তার ১শ মাইলের ভেতরো ছিলাম না। মাস দুই পর আমি যখন তার নিকট পৌঁছলাম তখন আমার বয়স যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান ছিলো এটা বুঝতে যে পুরুষ মানুষও কখনো সখনো কান্না-কাটি করে। আমি বুঝতে পারছিলাম না ঠিক আমি কি হারাচ্ছি। আমার দুচোখ ছুঁয়ে যে জল গড়িয়ে যাচ্ছিলো সেটা কতোটা বছর পর গড়াচ্ছে তার সঠিক ক্যালকুলেশন এতোটা বছর পর এতোটা তীহ্ম আর কৌশলী ব্রেন নিয়েও আমি সমাধা করতে ব্যর্থ।
আজ পূর্ণিমা। তাই মশার ভৌ শব্দের জ্বালাতন উপেক্ষা করে কিছু লিখতে বসা আমার। রুপোলী আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে আমার ঘরের চারপাশ এবং আমি। কোন ছাগল পূর্ণিমাকে ঝলসানো রুটি বলেছে সেটা মনে করতে পারছি না। এতো সুন্দর একটা মুখকে কেউ ঝলসানো রুটি বলতে পারে? কবিরা এমনিতেই মিথ্যুক হয়। মিথ্যে আর কল্পনা ছাড়া কবিতা লেখা সম্ভব না। আমি সাহিত্যিক না। কবি না। কিন্তু মাঝে মাঝে আমার খুব লিখতে ইচ্ছে করে। নিলর্জ্বের মতো। লিখি না আমি। লিখতে ভাল্লাগে না।
যখন ডায়রী লিখতাম তখন অদ্ভুত সব বিষয় নিয়ে লিখতাম। কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং নিয়ে আমার সুদূর প্রসারী গভেষনা থেকে শুরু করে স্বপ্নাকে লেখা কতোশতো কবিতা, প্রেমপত্র, প্রেম নিয়ে আবেগ টসটস কতোশত কথা... ভালোলাগা ছিলো ওতে। প্রথম ডাইরীটা আমি কয়েকটা চিঠির সাথে পুড়িয়ে ফেলেছি। ২য় ডায়রীটা পড়িনা। তার অক্ষত থাকাটা একটা বিস্ময়। তৃতীয় ডায়রীটা আমার পাগলাটে, অসমাপ্ত। ছেঁড়া ছেঁড়া, ভাসা ভাসা কতো কি ওতে ভরা। শার্ট, প্যান্ট, শর্ট, গ্যাঞ্জি, স্যান্ডেলের তালিকা থেকে ওতে প্রেমপত্র পর্যন্ত লেখা। আছে গিটারের কিছু কর্ড। কিছু নিজের লেখা গান। কিছু প্রিয় মানুষ নিয়ে মূল্যায়ন। আছে কিছু প্রিয় চেহারা আঁকার কতোশতো বাহারী প্রচেষ্টা। রাস্তায় কোনো ফকিরকে ভালো লেগেছে সে অনুভূতি নিয়েও কয়েক লাইন... এসব...।
এখন ডায়রী টাইরী লেখা হয়না। প্রযুক্তি মানুষকে খুব বদলে দিচ্ছে। অনলাইনেই এখন ভাব বিনিময় করা যায় হারহামেশা। জীবন কতো সহজ এখানে। বৃষ্টি বাদলের মতো কতো ঝরঝরে আবেগ এখানে, ঘুরোঘুরি করে। মানুষ কতো সহজে নিজেকে এখানে গোছগাছ করতে পারে...। আমি এখনো প্রযুক্তির সাথে নিজেকে মানিয়ে পারিনি অতো। খুব অগোছালো, আর খুব ঘাড় ট্যারারা হয়তো এসবে মানিয়ে নিতে পারেনা। আমার ওতে কোনো দাবী নেই। নিজের প্রতি স্লেশ কিংবা তিক্ততাও নেই। আমি যা দাবি করি, যা ভাবনা ভাবি তা সবই সবুজ সর্ম্পকীয়। আমার সাথে প্রযুক্তির একটা দন্দ্ব তৈরী হবে, এটা স্বাভাবিক। আমি মেনে নিয়েছি। নতমুখেই।
রাত কতো হলো জানিনা। চোখে ঘুম নামেনি এখনো। আদৌ নামবে কিনা বলা মুশকিল। বাসায় নেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। নেট মানেই নিজের কমজোরী স্বভাবটার নেজ ধরে ঠুনকো টানাহ্যাঁছড়া। আমি ওসবে এখন আর বিশ্বাস করিনা। তবু কখনো সখনো খুব, খুব ইচ্ছে করলে ল্যান্ড ফোন দিয়ে ব্রাউজ করি। বেশি দূর যেতে পারিনা। আমার আঙুলের ডগায় খুব কম ওয়েব সাইট ঘুরোঘুরি করে। যেগুলো খুব চেনা। যখন খুব খুব ইচ্ছে করে কপালে ভাঁজ ফেলতে, সহসা রেগে ওঠতে, তখন কারো ডাহা মিথ্যে কথাগুলো পড়তে থাকি। যখন খুব লোনলী অনুভব করি তখন সোজা 'গুগলের' পেটে ঢু মেরে, কাউকে নিয়ে শুধু শুধু খুড়োখুড়ি করি। বরাবরের মতোই ওসব পানসে। তবু সময়তো কাটে। রাত বারে। চোখে ঘুম নামে।
** ২৪ নভেম্বর, ২০০৭ইং এর লেখা।
তুই কখনো কোনো মানুষকে মরতে দেখেছিস? আমি দেখেছি। কেমন অসহায় থাকে তখন সে। কেমন ঘোরতর এক শূণ্যতা থাকে তার সবকিছু জুড়ে। থাকে তার চারপাশে অদ্ভুত, অচেনা-অজানা এক ধোঁয়াটে গন্ধ। এসব যদিওবা সহ্য করা যায় কিন্তু মৃত মানুষের চেহারা আমি সহ্য করতে পারিনা, একদম। ওতে আমি আলো দেখিনা, হাসি দেখিনা, চোখের মায়াময় দৃষ্টি দেখিনা। প্রথম যাকে মরতে দেখেছিলাম তখন সেটা উপলব্ধি করার মতো বয়স ছিলোনা। দ্বিতীয়বার যাকে মরতে দেখলাম এবং যে আমার হাতের উপরই মারা গেলো তার ঘন্টা কয়েক আগ পর্যন্ত আমি তার ১শ মাইলের ভেতরো ছিলাম না। মাস দুই পর আমি যখন তার নিকট পৌঁছলাম তখন আমার বয়স যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান ছিলো এটা বুঝতে যে পুরুষ মানুষও কখনো সখনো কান্না-কাটি করে। আমি বুঝতে পারছিলাম না ঠিক আমি কি হারাচ্ছি। আমার দুচোখ ছুঁয়ে যে জল গড়িয়ে যাচ্ছিলো সেটা কতোটা বছর পর গড়াচ্ছে তার সঠিক ক্যালকুলেশন এতোটা বছর পর এতোটা তীহ্ম আর কৌশলী ব্রেন নিয়েও আমি সমাধা করতে ব্যর্থ।
আজ পূর্ণিমা। তাই মশার ভৌ শব্দের জ্বালাতন উপেক্ষা করে কিছু লিখতে বসা আমার। রুপোলী আলোর বন্যায় ভেসে যাচ্ছে আমার ঘরের চারপাশ এবং আমি। কোন ছাগল পূর্ণিমাকে ঝলসানো রুটি বলেছে সেটা মনে করতে পারছি না। এতো সুন্দর একটা মুখকে কেউ ঝলসানো রুটি বলতে পারে? কবিরা এমনিতেই মিথ্যুক হয়। মিথ্যে আর কল্পনা ছাড়া কবিতা লেখা সম্ভব না। আমি সাহিত্যিক না। কবি না। কিন্তু মাঝে মাঝে আমার খুব লিখতে ইচ্ছে করে। নিলর্জ্বের মতো। লিখি না আমি। লিখতে ভাল্লাগে না।
যখন ডায়রী লিখতাম তখন অদ্ভুত সব বিষয় নিয়ে লিখতাম। কাকের ঠ্যাং, বকের ঠ্যাং নিয়ে আমার সুদূর প্রসারী গভেষনা থেকে শুরু করে স্বপ্নাকে লেখা কতোশতো কবিতা, প্রেমপত্র, প্রেম নিয়ে আবেগ টসটস কতোশত কথা... ভালোলাগা ছিলো ওতে। প্রথম ডাইরীটা আমি কয়েকটা চিঠির সাথে পুড়িয়ে ফেলেছি। ২য় ডায়রীটা পড়িনা। তার অক্ষত থাকাটা একটা বিস্ময়। তৃতীয় ডায়রীটা আমার পাগলাটে, অসমাপ্ত। ছেঁড়া ছেঁড়া, ভাসা ভাসা কতো কি ওতে ভরা। শার্ট, প্যান্ট, শর্ট, গ্যাঞ্জি, স্যান্ডেলের তালিকা থেকে ওতে প্রেমপত্র পর্যন্ত লেখা। আছে গিটারের কিছু কর্ড। কিছু নিজের লেখা গান। কিছু প্রিয় মানুষ নিয়ে মূল্যায়ন। আছে কিছু প্রিয় চেহারা আঁকার কতোশতো বাহারী প্রচেষ্টা। রাস্তায় কোনো ফকিরকে ভালো লেগেছে সে অনুভূতি নিয়েও কয়েক লাইন... এসব...।
এখন ডায়রী টাইরী লেখা হয়না। প্রযুক্তি মানুষকে খুব বদলে দিচ্ছে। অনলাইনেই এখন ভাব বিনিময় করা যায় হারহামেশা। জীবন কতো সহজ এখানে। বৃষ্টি বাদলের মতো কতো ঝরঝরে আবেগ এখানে, ঘুরোঘুরি করে। মানুষ কতো সহজে নিজেকে এখানে গোছগাছ করতে পারে...। আমি এখনো প্রযুক্তির সাথে নিজেকে মানিয়ে পারিনি অতো। খুব অগোছালো, আর খুব ঘাড় ট্যারারা হয়তো এসবে মানিয়ে নিতে পারেনা। আমার ওতে কোনো দাবী নেই। নিজের প্রতি স্লেশ কিংবা তিক্ততাও নেই। আমি যা দাবি করি, যা ভাবনা ভাবি তা সবই সবুজ সর্ম্পকীয়। আমার সাথে প্রযুক্তির একটা দন্দ্ব তৈরী হবে, এটা স্বাভাবিক। আমি মেনে নিয়েছি। নতমুখেই।
রাত কতো হলো জানিনা। চোখে ঘুম নামেনি এখনো। আদৌ নামবে কিনা বলা মুশকিল। বাসায় নেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে রেখেছি। নেট মানেই নিজের কমজোরী স্বভাবটার নেজ ধরে ঠুনকো টানাহ্যাঁছড়া। আমি ওসবে এখন আর বিশ্বাস করিনা। তবু কখনো সখনো খুব, খুব ইচ্ছে করলে ল্যান্ড ফোন দিয়ে ব্রাউজ করি। বেশি দূর যেতে পারিনা। আমার আঙুলের ডগায় খুব কম ওয়েব সাইট ঘুরোঘুরি করে। যেগুলো খুব চেনা। যখন খুব খুব ইচ্ছে করে কপালে ভাঁজ ফেলতে, সহসা রেগে ওঠতে, তখন কারো ডাহা মিথ্যে কথাগুলো পড়তে থাকি। যখন খুব লোনলী অনুভব করি তখন সোজা 'গুগলের' পেটে ঢু মেরে, কাউকে নিয়ে শুধু শুধু খুড়োখুড়ি করি। বরাবরের মতোই ওসব পানসে। তবু সময়তো কাটে। রাত বারে। চোখে ঘুম নামে।
** ২৪ নভেম্বর, ২০০৭ইং এর লেখা।
Labels:
চলে যাচ্ছে দিন...,
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
না-মানুষ,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা
Tuesday, November 20, 2007
আমার মতো পাগোল প্রায়!
-- দে
গভির হুংকারে চমকে উঠি খুব। কাছেই দাঁড়িওয়ালা এক লোক বসে আছে। আমি তার দিকে এগিয়ে যাই, কাঁধে ঝোলানো ক্যামটা হাতে নিয়ে টিউন করতে করতে প্রশ্ন করি- 'কি দেবো?' সে কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়। চোখের তারা ব্যতিত অন্য কোথাও সেটা দেখা যাচ্ছে না। মুখটা ভাবলেশহীন। আমার এগিয়ে যাওয়াটা তার কাছে প্রত্যাশিত না সেটা বুঝা যাচ্ছে। গম্ভির শব্দটা হঠাৎ করে নিচু হয়ে যায়, 'পাঁচ টাকা'। উহু কথার ধারটা একটুও কমেনি।
-- কেনো দেবো পাঁচ টাকা, চোখে আমার কৌতুক ঝরে। সে চুপ হয়ে যায় হঠাৎ। এর মধ্যে দুটো ছবি তুলে ফেলেছি। তার পকেটে ৩/৪টা কলম দেখা যাচ্ছে। 'এই কলম দিয়ে কি করা হয়?' সে নিরুত্তর থাকে। 'ঠিক আছে। পাঁচ টাকা দিতে পারি যদি বলেন এই পাঁচ টাকা দিয়ে কি করবেন।' সে কিছুক্ষন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখ না নামিয়েই বলে- 'লাগবো না'। আমি ক্যামটা ফের কাঁধে ঝুলিয়ে সামনের গ্রামের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি। এ পাগোল না। আবার স্বাভাবিক মানুষও না। অনেকটা যেন আমারই মতোন। হা হা হা। ওয়েট, একটা প্রশ্ন, সে খেলছেটা কার সাথে? আই ডোন্ট নো, আই ডোন্ট নো। অনেক ঋণ নেই বেটার। ঋণী থাকলে পাগোল হবার মজাটা টের পেতে সাধু! নি:শব্দে হাসতে থাকি লাগামহীন। ঠোঁট, চোখ, মুখ, ছায়া, সবখানেই অজানা এক উল্লাস। কেনো এতো উল্লাস আজ? উহু... অসুস্থ্য মরিচিকারা তা জানেনা। জানবেনা কোনোদিন।
Labels:
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
না-মানুষ,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা,
স্বপ্ন সবুজ
Wednesday, November 14, 2007
শিশুর মতোই আমি-আপনি, তুমি-তুই
একজন আরব দার্শনিক শিশুদের ভালোবাসতেন, কারণ শিশুরা কিছু তৈরি করার পর তা ভেঙ্গে ফেলে। তারা নতুন কাপড় পরে খুশি হয়, তারপর সেটা নোংরাও করে ফেলে। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা কৌশল না ভেবেই নিজেদের মধ্যে তারা বিবাদ তৈরী করে।
Labels:
ছেঁড়া মানুষের গল্প,
ভাঙ্গা-গড়া,
মেঘবালিকা,
যন্ত্রণা
Friday, November 2, 2007
যন্ত্রণা
'গ্যাস আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা একদিন ফুরিয়ে যাবে। তাই অযথা চুলা জ্বালিয়ে রাখা ঠিক না। একটা ম্যাচকাঠী বাঁচানোর জন্য উনুন জ্বালিয়ে রাখা ঠিক না।' সকালেই উপদেশটা শুনলাম ৩ বার। যিনি বললেন বয়সের দিক থেকে তিনি সেঞ্চুরীর পথে। আমি নিজেও উপদেশটা বার কয়েক রিপিট করলাম, বাকিদের শুনালাম ভঙ্গী নকল করে। নকল করা সহজ, একহাত কোমরে রাখতে হবে, ঠোঁট দুটো টিয়া পাখির মতো সরু আর নাকটা কুঁচকে বলতে হবে। অ্যাঁ... গ্যাঁস আঁমাদের জাঁতীয় সঁম্পদ। এঁটা এঁকদিন ফুঁরিয়ে যাঁবে। টাই অঁযথা চুঁলা জ্বালিয়ে রাঁখা ঠিঁক না। এঁকটা ম্যাছকাঁঠী বাঁচানোর জন্য উঁনুন জ্বালিয়ে রাঁখা ঠিঁক না।"
নকলটা ভালো হয়েছে তা বেশ ভালো বুঝা যায়। যিনি শুনেছেন তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে হেসেছেন। এদিকে আমার এক চোখ ট্যারা হয়ে গেছে নকলের ঠেলায়। হায় আগেতো চিন্তা করি নাই, দেখিও নাই। দাদী আমার মাশাল্লাহ সুন্দর। শুধু নাকটা একটু বোচা। বোচা নাঁকিরা নাকি হাঁদা হয়। দাদীকে দেখলে অবশ্য এর সত্যতা টের পাওয়া যায়।
আঁমাকে তিনি নতুন হাওয়াই ফ্যান কিনে দিবেন। পুরানটায় বাঁতাস কম দেয়। মনে মনে ভাবি, হায় তুমি যদি শীতের আগে আসিতে!
'এ জিনিস মাথার উপর পড়লে আমি নির্ঘাত মারা যাবো।'
'জগত ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে। আমাকেও যেতে হবে, তোকেও যেতে হবে'
'কো...কোথায় যাবেন?'
' সররর তুই জানিসনা মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? তিনি আমাকে সরিয়ে মেহেদী গাছের পাতা থেকে ধুলো ঝাড়ছেন।
' কখনো ঐখানে যাই নাই, তবে আপনার এতো তাড়াতাড়ি সেখানে যাওয়া উচিৎ হবে না’
' কেন?'
'ফ্যান কে কিনে দেবে?' হো হো হো আমি বুড়ির পেছনে নৈ:শব্দিক উল্লাস করি। ঝানতাম না আমি ডান্স পারি!
সকালেই বুড়ি ঘুম ভাঙ্গাচ্ছেন ইদানিং। মুখ-চোখ-ভ্রু কুঁচকে ভাবি এ বুড়ি ছাদে উঠে ক্যামনে :(( প্রতিদিন সকালে এমন উটকো ঝামেলা, জানটার উপর ইদানিং খুব অনৈতিক হামলা চলছে।
নকলটা ভালো হয়েছে তা বেশ ভালো বুঝা যায়। যিনি শুনেছেন তিনি আঁচলে মুখ ঢেকে হেসেছেন। এদিকে আমার এক চোখ ট্যারা হয়ে গেছে নকলের ঠেলায়। হায় আগেতো চিন্তা করি নাই, দেখিও নাই। দাদী আমার মাশাল্লাহ সুন্দর। শুধু নাকটা একটু বোচা। বোচা নাঁকিরা নাকি হাঁদা হয়। দাদীকে দেখলে অবশ্য এর সত্যতা টের পাওয়া যায়।
আঁমাকে তিনি নতুন হাওয়াই ফ্যান কিনে দিবেন। পুরানটায় বাঁতাস কম দেয়। মনে মনে ভাবি, হায় তুমি যদি শীতের আগে আসিতে!
'এ জিনিস মাথার উপর পড়লে আমি নির্ঘাত মারা যাবো।'
'জগত ছেড়ে সবাইকে চলে যেতে হবে। আমাকেও যেতে হবে, তোকেও যেতে হবে'
'কো...কোথায় যাবেন?'
' সররর তুই জানিসনা মৃত্যুর পর মানুষ কোথায় যায়? তিনি আমাকে সরিয়ে মেহেদী গাছের পাতা থেকে ধুলো ঝাড়ছেন।
' কখনো ঐখানে যাই নাই, তবে আপনার এতো তাড়াতাড়ি সেখানে যাওয়া উচিৎ হবে না’
' কেন?'
'ফ্যান কে কিনে দেবে?' হো হো হো আমি বুড়ির পেছনে নৈ:শব্দিক উল্লাস করি। ঝানতাম না আমি ডান্স পারি!
সকালেই বুড়ি ঘুম ভাঙ্গাচ্ছেন ইদানিং। মুখ-চোখ-ভ্রু কুঁচকে ভাবি এ বুড়ি ছাদে উঠে ক্যামনে :(( প্রতিদিন সকালে এমন উটকো ঝামেলা, জানটার উপর ইদানিং খুব অনৈতিক হামলা চলছে।
Friday, October 26, 2007
ভাবনাগুলো বেকার
ইদানিং ব্যস্ত থাকার মতো কোনো কাজ নাই। নাই পড়াশুনার ঝুটঝামেলা। কেবল শৌন্য ঠাকুরের মতন এলেবেলে ছোটোছুটি। আমার এসবে খারাপ লাগে না, আবার ভালোও লাগে না। জীবনটা চলছে জীবনের প্রয়োজনেই, ব্যাস, এটুকুইতো। স্পর্শকাতর বিষয়য়াদি মাঝে মাঝে ঘনকালো তুফান হয়ে লতাবৃক্ষের মতন মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে যায়। আমি প্রতিবাদহীন নত-মস্তক নিয়ে নির্জনতায় পড়ে থাকি। প্রাপ্যতাগুলো আমি জানি আমার জন্য বন্ধুসুলভ হয়না কখনোই।
মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার বিলাসীতা মরে গেছে শেষ ফাগুনে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে দু:স্বপ্নের মতো একটা মৃত অভিলাস বুক ফুড়ে জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে। এ ঘন নোনা জল প্রত্যাশামত যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে তা তেমন মূল্যবান নয় আর। কেউ আর আমার জন্য অপেক্ষায় নেই। আমিও নেই। কেউ আমার নয়, আমিও কারো নই। সহজ হিসেব নিকেশ। একে জটিল করে ভাবতে এখন আর ইচ্ছে করেনা।
মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার বিলাসীতা মরে গেছে শেষ ফাগুনে। এ নিয়ে মাঝে মাঝে দু:স্বপ্নের মতো একটা মৃত অভিলাস বুক ফুড়ে জল হয়ে গড়িয়ে পড়ে। এ ঘন নোনা জল প্রত্যাশামত যা প্রমাণ করার চেষ্টা করে তা তেমন মূল্যবান নয় আর। কেউ আর আমার জন্য অপেক্ষায় নেই। আমিও নেই। কেউ আমার নয়, আমিও কারো নই। সহজ হিসেব নিকেশ। একে জটিল করে ভাবতে এখন আর ইচ্ছে করেনা।
Subscribe to:
Posts (Atom)